সামর্থ্যের বেশি দিতে চান মামুনুলরা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১১:১৭
সকাল থেকে বাফুফে ভবনের মূল ফটকের সামনে দর্শকের ভিড়। টিকিট পেতে লম্বা লাইন। দর্শক ঠেকাতে ভেতরে পুলিশের অবস্থান। টিকিট ক্রেতাদের চিত্কার শুনে নিজের রুমের পর্দা সরিয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এত দর্শক দেখে অবাক। বাইরে টিকিট পেতে উত্তেজনা, ভেতরে তখন সোনায় মোড়ানো ট্রফি হাতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার অধিনায়ক নাজিরুল নাঈম। ফটো সেশনে ট্রফি হাতে ফাইনালের দুই দলের অধিনায়ক। হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ফটো সাংবাদিকরা। ফ্লাশ জ্বলল মুহুর্মুহু। সবাই মামুনুলকে হাসতে বললেন। কিন্তু মামুনুলও হাসছেন না, মালয়েশিয়ান অধিনায়ক নাঈমও হাসছেন না। পেছনে ২৪টি টেলিভিশন ক্যামেরা। ছবি তুলতে পারছিলেন না। সামনের সাংবাদিকদেও বলা হলো, আমাদের একটু সুযোগ দেন না ভাই। ছবি তোলা নিয়ে একটা হৈচৈ হয়ে গেল। আর তা দেখে দুই অধিনায়কের ঠোঁটে হাসি মিলল। এমন ছবিটাই যেন খুঁজছিলেন সবাই। শেষ হাসি কে হাসবে? কার হাতে যাবে সোনার ট্রফি? তার জবাবটা মাঠেই দিতে চায় দুই দল।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে আজ সোনার লড়াই। দুই দেশই ফাইনালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। মালয়েশিয়াকে হারাতে বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে আছে। তারা জানে শক্তির বিচারে নিজেরা অনেক পিছিয়ে। তার পরও সেটা তোয়াক্কা করছেন না ডাচ কোচ লুডিভিক ডি ক্রুইফ কিংবা অধিনায়ক মামুনুল। এটা যদি দুর্গম পাহাড়ও হয় সেটাই আজ টপকাতে হবে। পুরো দলটা যেন একটা অঙ্গীকার করেছে। বাফুফের সভাপতি গতকাল সকালেই হোটেলে গিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের সাথে মিটিং করেছেন। আবার সেই একই কথা বলেছেন। মানসিক চাপ দেননি। খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে তাদেরকে হালকা করে দেয়ার জন্য যা করা দরকার সেটা করতে চেয়েছেন। সেমিফাইনালে বাফুফে সভাপতি ৫০ লাখ টাকা বোনাস দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সালাউদ্দিনের কাছে বোনাসের টাকা চাইলেন জাহিদ হোসেন। সালাউদ্দিন বললেন, ‘আমি তো জানি আর কারো এই মুহূর্তে টাকার দরকার নেই। তোমারই শুধু টাকা দরকার। আসো আমার সাথে গাড়িতে আসো। তোমার জন্য টাকা নিয়ে এসেছি।’ শুনে জাহিদ বলেছেন, ‘না না লাগবে না। সবার সাথে নেবো।’ খেলোয়াড়দের রিল্যাক্স করার চেষ্টা বাফুফের সভাপতির। কোচ ক্রুইফ এবং মামুনুল ইসলামও হালকা মনে করছেন। ক্রুইফ বললেন, ‘আমরা দুই দিন পাইনি মালয়েশিয়ার মতো। একদিন যথেষ্ট নয়। তার পরও সুইমিংপুলে গেছেন খেলোয়াড়রা, ম্যাসাজ করানো হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা কি, মানসিকভাবে এখন খেলোয়াড়দেরকে প্রশান্তির মধ্যে থাকতে হবে।’ মামুনুল বললেন, ‘আমরা তো ক্লান্ত, আট দিনে তিনটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছি। যতটুকু বিশ্রাম দরকার তা নেয়া হয়নি। এখন ফাইনাল ম্যাচ। পুরো বিশ্রাম হয়নি। শরীরের পেশিগুলো হালকা করতে ৪৮ ঘণ্টা লাগে। যদি সেরা খেলাটা খেলতে হয়। সেটা হোক বা না হোক, আমাদেরকে লড়াই করতে হবে।’ কোচ ক্রুইফ পরিকল্পনা করেছেন সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে খেলাটা খেলেছে, সেটাই আজ ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে খেলাতে চান। গোলকিপার সোহেল, রক্ষণে ইয়ামিন মুন্না, ইয়াসিন খান, নাসির চৌধুরী, মাঝ মাঠে মামুনুল, জামাল ভুইয়া, আক্রমণভাগে জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা, হেমন্তরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দিয়েছেন। এমিলিকে দারুণ দারুণ গোলের সুযোগ করে দেয়ার পরও তিনি সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। হেড তুলে দিয়েছেন গোলকিপারের হাতে। গোলকিপারকে বিপদে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি তিনি। তার পরও বলা যায় দলের এক একজন ফুটবলার যেন শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করে গেছেন। তারই ফসল পেয়েছেন থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে। আজ ফাইনালে মালয়েশিয়ানদের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের খেলাটাই মেলে ধরতে পারলে চ্যাম্পিয়ন হবে, এই বিশ্বাস বাংলাদেশ ফুটবল দলের। সেমিফাইনালের মতোই আজও ফাইনালে স্টেডিয়াম ভরে যাবে দর্শকে। সেটা জানা আছে ক্রুইফের। তিনি বললেন, ‘এটা আমার জন্য ভালো। আমার ছেলেরা ভালো করবে। দর্শক চাপ নিয়েই ভালো খেলার শক্তিটা দেখেছেন দর্শক।’ বাংলাদেশ চায় মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে। এর জন্য প্রস্তুত আছেন মামুনুল অ্যান্ড কোম্পানি। সেফািইনালের আগে টাইব্রেকারের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে পর্যন্ত যেতে হয়নি বাংলাদেশের। আজও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ও-খেলাটা শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। ক্রুইফ বললেন, ‘আমার দল এখন ভালো মুডে আছে। ট্রফি জয়ের জন্য প্রস্তুত আছে।’ 
মামুনুল কথা দিচ্ছেন দর্শক যে খেলাটা আশা করে সেটাই করে দেখাবেন তারা। ঘুরেফিরে আবার বাফুফের সভাপতির কথা বললেন অধিনায়ক, ‘সালাউদ্দিন ভাইয়ের এই ট্রফিটা দরকার। আমরা সেটা এনে দিতে চাই।’ ২৭ বছর বয়সী এই অধিনায়কের কথা হচ্ছে আজ ফাইনালে সামর্থ্যের বেশি খেলতে হবে। না হলে হবে না। মামুনুলের শেষ কথা, ‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।’
বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ফাইনালের সোনার লড়াই বিকাল ৫টায়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।