২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের দ্বারা নিহত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। হত্যার তিন বছর পরে রবিবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ পদমার্যাদার বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচজনকে ফাঁসি এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারানদণ্ড দেয়া হয়।
এ রায়কে সাধুবাদ জানিয়েছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পরদিন ৯ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান জুবায়ের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে ঐ দিনই আশুলিয়া থানায় ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঐ বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে জুবায়ের হত্যাকারী ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে তদন্ত কমিটির রিপোটের সুপারিশের ভিত্তিতে সাত ছাত্রকে আজীবন এবং ছয় ছাত্রকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। জুবায়েরের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায়। এদিকে জুবায়ের হত্যার রায় ঘোষণার পরপরই ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’। পাশাপাশি অন্যান্য সংগগঠনও এ রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তন্ময় কুমার ধর বলেন,জুবায়ের হত্যার যে রায় ঘোষিত হয়েছে তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং দ্রুত কার্যকরের আহবান জানাচ্ছি।
শাখা ছাত্রফ্রন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয় ‘জুবায়ের হত্যার রায়ের মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলোতে হত্যার রাজনীতি বন্ধ হবে’।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, এ রায় শুধু জাহাঙ্গীরনগর নয় পুরো জাতির কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত জুবায়েরের পরিবারও। জুবায়েরের বড় ভাই সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,মূল আসামী ১১জনের ফাঁসি হলে আমরা আরো বেশি সন্তুষ্ট হতাম। তবে আপাত দৃষ্টিতে যে রায় হয়েছে তা খুব দ্রুত কার্যকর করা হবে এ আশা ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি পলাতক যে আসামীরা রয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানাচ্ছি।
