ছাত্রদল নেতাদের নির্দেশে বোমা নিক্ষেপ করে মাহবুবুল

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২২:২৭
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধের মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে আতংক সৃষ্টি করতে ছাত্রদলের কয়েহজন নেতার পরামর্শে মাহবুবল হাসান সিকদার বোমা হামলা চালিয়েছিল। রবিবার মাহবুবুল মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনানের আদালতে এ স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়,ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান খোকনকে সরাসরি জড়িত থাকা এবং পরামর্শ দাতা হিসেবে ছাত্রদলের নেতা টুকু, সোহেল, নীরবের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, বোমা হামলার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা সচিবালয় থেকে সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ওই ফুটেজে দেখা যায় এক ব্যক্তি দুই পকেটে হাত ভরে সচিবালয়ে প্রবেশ করে। ওই ছবি নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চত হয়। গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে পকেটে হাত দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করা ওই ব্যক্তির নাম মাহবুবুল হাসান সিকদার।
ওই জবানবন্দি মামহবুবুল বলেন ‘আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বিভিন্ন পদে ছিলাম! আমি জগন্নাথ থেকে ২০০৩ইং-এ বের হই। আমি টুকু আলীম কমিটির কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য ছিলাম। আনিসুর রহমান খোকন জগন্নাথ থেকে আমার সাথে এক সাথে রাজনীতি করত। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিল।
আনিসুর রহমান খোকন ভাই ৩১/১/১৫ইং আমাকে বিকাল ৪.০০টার দিকে ফোন দেয়। দিয়া বলে কালকে সকালে একটু বের হইস, কাজ আছে।” আমি বর্তমানে রাজনীতিতে ইনাকটিভ (inactive ) টুকটাক ঠিকাদারী করি বিদ্যুত্ ভবনে।
ঘটনার দিন ১ তারিখ খোকন ভাই সকাল ৮.৪৫টার দিকে আমাকে ফোন দেয়। খোকন ভাইয়ের ফোনে আমার ঘুম ভাংগে। সে আমাকে বলে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার জন্য সে আমার বাসার নিচে আসে। আমি তাড়াহুড়া করে বাসার নিচে নেমে তার গাড়ীর কাছে যাই। সে আমাকে বলে টুকু ভাই, সোহেল ভাই, নীরব ভাই এদের সাথে কথা হইছে। সচিবালয়ে একটা আতংক সৃষ্টি করতে হবে। সে আমাকে এই কাজ করতে হবে বলে এবং বলে আমার বর্তমানে পোস্ট পজিশন নষ্ট। এই কাজ করতে পারলে একটা পোস্ট পাওয়া যাবে এবং পার্টি ক্ষমতায় আসলে ভাল থাকব।
এইসব বলে খোকন ভাই আমাকে ... আমি তার .... উঠি। ১০.৩০টার দিকে আমরা সচিবালয়ের কাছে বিদ্যুত্ ভবনের নিকট আসি। তখন গাড়ীর মধ্যে টিস্যু বক্সের ভিতর থেকে দুইটা ককটেল বের করে খোকন আমাকে দেয়। আমি ককটেল দুইটা নিয়ে পাঁচ তলায় যাই। সচিবালয়ের মধ্যে লোকজন থাকায় আমি বিলম্ব করতেছিলাম। কিছুক্ষণ পরে খোকন ভাই আমাকে ফোন দিয়া বলে দেরী হচ্ছে কেন। তখন আমি বলি লোকজন আছে। এর কিছুক্ষণ পর পাঁচ তলা থেকে একটা ককটেল আমি সচিবালয়ের ভিতর মারি। আরেকটা ককটেল মারার সময় ভাস্ট হয়ে যায় তারে লাগে ঐ জায়গার মধ্যে। পরে আমি দ্রুত ঐ জায়গা থেকে নেমে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সিএনজি নিয়ে বাসায় চলে যাই।