চাকরী পূনর্বহালের দাবী করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো মতিউর!

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২৩:৩৭

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের নর্থ প্যাডে চাকরী পূনর্বহালের দাবী নিয়ে অবরোধ করতে গিয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফিরলেন মতিউর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ৩ ঘটিকায় গ্যাস ফিল্ড এলাকায়। নিহতের পরিবারের দাবী পুলিশের পিটুনিতে মতিউর হৃদপিণ্ডে আঘাত পায়। তাকে সিলেট নর্থ ইষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, হট্রগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছলে একাধিক হত্যা মামলার আসামী মতিউর দৌড় দিলে হার্ট এ্যাটাক করে। পরে থাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট প্রেরন করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কসবা গ্রামের মৃত আলাই মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিবিয়ানা গ্যাস কুপের নর্থ প্যাডে সিকিউরিটি হিসেবে কর্মরত ছিল। এলাকায় হত্যা মামলায় হাজতবাসের কারনে তার চাকুরী চলে যায়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তার হারানো চাকুরী ফিরে পেতে গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দেন। কর্তৃপক্ষ চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় ক্ষেপন করলে গতকাল রবিবার বিকালে উল্লেখিত সময়ে মতিউর রহমান (৪৫) ও তার সহযোগী একই গ্রামের মৃত বশির মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়াকে (৪২) সঙ্গে নিয়ে গ্যাস ফিল্ড নর্থ প্যাডে যান। সেখানে সিকিউরিটি-১ এ কর্মরত লোকদের কর্মস্থলে যোগ দিতে বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে পরিস্থিতি উত্তোপ্ত হয়ে উঠে। এ সময় সিকিউরিটি -১ এ কর্মরত মুমিন মিয়া বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মতিউরকে জাপটে ধরে। এ সময় মতিউর পুলিশের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে পালানোর সময় পাশ্ববর্তী জমিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট নর্থ ইষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসারত অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কসবাসহ আশপাশ এলাকার লোকনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই মিজানুর রহমান জানান, তার ভাই মতিউর রহমান চাকরী পুনর্বহালের দাবী নিয়ে রবিবার বিকালে নর্থ প্যাডে যায়। সেখানে সিকিউরিটিতে কর্মরত তার সহকর্মীদের তাদের চাকুরী ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকেও চাকুরীতে যোগ না দিতে অনুরোধ করেন। তারা দাবী না মানায় কর্মস্থলে যেতে বাধা দেন মতিউর। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে মতিউর রহমানকে শারিরিক নির্যাতন করে। এ কারনে মতিউর হার্ট এ্যাটাক করে মারা যায়। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, নর্থ প্যাডে হট্রগোলের খবর পেয়ে ইনাতগঞ্জ ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে একাধিক হত্যা মামলার আসামী মতিউর রহমান দৌড়ে পালানোর সময় পাশের জমিতে পড়ে হার্ট এ্যাটাক করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট প্রেরন করা হয়েছে।