বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান হরতাল-অবরোধ, সহিংসতা, পেট্রোল বোমা হামলায় মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল গতকাল রবিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী লাখো মানুষ নাশকতা ও সহিংসতা রুখতে দৃপ্ত প্রত্যয় ঘোষণা করেন। বিকাল ৩টা থেকে ‘শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে’ এক ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে ১৪ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের হরতাল-অবরোধের নামে নৃশংস হত্যাযজ্ঞের বিভিন্ন ভয়াল-বীভত্স ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এই কর্মসূচিকে ঘিরে গোটা ঢাকা মহানগর জুড়ে এক গণজাগরণের সৃষ্টি হয়।
বিকাল ৩টায় এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর ২/৩ ঘণ্টা আগে থেকেই পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে এসে জড়ো হতে থাকেন। বিকাল ৩টার আগেই মানুষ রাস্তার দু’পাশে হাতে হাত রেখে মানবন্ধনে দাঁড়িয়ে যান। তাদের চোখে-মুখে ছিল রাজনীতির নামে নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঘৃণা-ধিক্কার। রাজধানীতে ১৮ কিলোমিটার পথের ১৪টি পয়েন্টে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। গাবতলী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত ১৮ কিলোমিটার এই রুটের বাইরেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ অনেক জায়গাতেই ১৪ দলের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবেই মানবপ্রাচীর গড়ে তোলেন। আওয়ামীলীগ ও ১৪ দলের শরিক বিভিন্ন দলের সহযোগি-ভাতৃপ্রতীম ও সমমনা সংগঠনগুলোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-নারী সংগঠনগুলোর নেতারাও যোগ দেন। অনেকেই জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে শ্লোগানে শ্লোগানে মহানগরকে প্রকম্পিত করে তোলেন।
গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল হয়ে শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের পূর্ব প্রান্তে রাপা প্লাজার সম্মুখে, রাসেল স্কয়ার, গ্রীণ রোড স্কয়ার, বসুন্ধরা মার্কেট, হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনাগাঁও’র সম্মুখে, বাংলা মটর মোড়, রূপসী বাংলা হোটেলের মোড়, শাহবাগ মোড়, মত্স্য ভবন মোড়, কদমফুল ফোয়ারা, প্রেসক্লাব, পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার, গুলিস্তান মোড়, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে পার্কের মধ্যদিয়ে ইত্তেফাক মোড়, রাজধানী মার্কেট মোড়, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এ মানববন্ধন বিস্তৃত ছিল। ঢাকা মহানগরীর প্রায় একশ’টি থানা থেকে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অজস্র মিছিল নির্দিষ্ট করে দেয়া স্থানে এসে গড়ে তোলে এই মানবপ্রাচীর। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। মানববন্ধনে ছিল গগণবিদারী অভিন্ন আওয়াজ ‘খুনি খালেদার বিচার চাই, একাত্তরের দোসরদের রক্ষা নেই।’ ‘অবৈধ হরতাল মানি না মানব না-হঠাও সন্ত্রাস, বাঁচাও দেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ।’
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এক নম্বর গেটের সামনে এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূরুর রহমান সেলিম প্রমুখ অংশ নেন। রাজউক ভবনের শীর্ষে ঘড়ির কাঁটায় যখন বিকাল ৩টা, ঠিক তখন একাত্তরের রণাঙ্গনের কালজয়ী শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোহাম্মদ নাসিম। বিকাল ৪টায় বাঁশি বাজিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তিও টানেন তিনি।
খালেদা জিয়ার নির্দেশে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ : নাসিম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে চলমান নাশকতা ও সন্ত্রাস রোধ এবং দানবীয় শক্তি পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে ১৪ দল। খালেদা জিয়াকে মানুষ হত্যাকারী ও জঙ্গি নেত্রী হিসাবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার নির্দেশেই সারাদেশে বিএনপি জোটের সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করছে। তবে এই পেট্রোলবোমার বিরুদ্ধে মানবতার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। একাত্তরের ঘাতকদের যেভাবে পরাজিত করেছি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদেরও একইভাবে পরাজিত করা হবে। খালেদার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি গুলশান অফিসে স্বেচ্ছায় বন্দী হয়ে আছেন। রাস্তায় নেমে দেখুন আপনার ঘোষিত হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে শুধু ১৪ দলের নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও নেমে এসেছে। দেশের মানুষ শান্তির পক্ষে, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে। মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে শান্তির পক্ষে রায় দিয়েছে।
সহিংসতায় নিহতদের দায়িত্ব খালেদা জিয়াকে নিতে হবে : মেনন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজনীতিতে খালেদা জিয়া পরাজিত হয়েছেন। হেরে গিয়ে এখন তিনি পোড়ামাটির নীতি অবলম্বন করছেন। তিনি বলেন, সহিংসতায় নিহত সবার দায়িত্ব খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। একদিন তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।
জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আগুন-সন্ত্রাসীদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা চূড়ান্তভাবে দমন করতে হবে। দানবের সঙ্গে মানবের সংলাপ হয় না। তিনি বলেন, একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী বলছেন, আগুন-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। সব আলোচনা হবে, তবে তার আগে এখনই তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। আগুনে পুড়ে যারা অঙ্গার হয়ে মারা গেছেন তাদের লাশ মাড়িয়ে আমরা সংলাপ করতে পারি না। আগুন-সন্ত্রাসীদের নিয়ে তারা বাংলাদেশে আন্দোলন পরিচালনা করছে। তাই এ আগুন-সন্ত্রাসী ও গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে এখনই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া জল্লাদী বেগম, কসাই বেগম ও ডাকিনি বেগমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে কোন সঙ্কট নেই। যে সঙ্কট চলছে, তা রাজনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্কট নয়। যা হচ্ছে রাজনীতির নামে সন্ত্রাস-নাশকতা ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা। তাই এই নাশকতা দমন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এবং সাধারণ আইন দিয়ে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নতুন আইন, নতুন আদালত ও নতুন বাহিনী সৃষ্টি করা। আর জনগণকে সম্পৃক্ত ও সংগঠিত করে নাশকতার বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলেই জয়ী হতে হবে।
মানুষ মেরে পরিবর্তন সাধন করা যাবে না : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
২৭ নম্বর রোডের পূর্বপ্রান্তে রাপা প্লাজার সামনে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন পালন করা হয়। এতে দলের মহাসচিব ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, মফিজুল হক বেবু, আবুসাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন, মোহাম্মদ হোসেন রেনু, যুগ্ম মহাসচিব জামিলুল হক বকুল, খলিলুর রহমান খলিল, মাহাবুবুর রহমান লিপটন, খন্দকার শাহীন আলদ্বীন রিজভী, গাজী আমিনুর রহমান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দীন আহমেদ, অর্থ সম্পাদক আব্দুল সালাম বাহাদুর, প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল হোসেন, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এনামুল ইসলাম রুবেল, মানবাধিকার সম্পাদক নূরুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যুগ্ম সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ ওকাল, কেন্দ্রীয় সদস্য মনির রেজা খান, জেপির যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি এম.এ কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, যুব সংহতির নেতা জেড সেলিম, নাজমুল হাসান, আব্দুল আজিজ, স্বেচ্ছাসেবক নেতা মাহাবুবুর রহমান ভুলু, করিম সিকদার প্রমুখ অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অবরোধ-হরতালের নামে চলমান হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশে কোন পরিবর্তন আনতে হলে তা অবশ্যই গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় করতে হবে। মানুষ মেরে কোন পরিবর্তন সাধন করা যাবে না।
দলের মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চলছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। পেট্রোল বোমায় দগ্ধ অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বাংলার মাটিতে খালেদা জিয়ার বিচার হবে : শেখ সেলিম
ধানমন্ডি থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত ১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করে খালেদা জিয়া যদি মনে করেন তিনি রক্ষা পেয়ে যাবেন, তাহলে ভুল করছেন। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনে নতুন আইন করা হবে। বাংলার মাটিতে তার বিচার হবে। তাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন, অবরোধ-হরতালের নামে খালেদা জিয়া গত ৩৪ দিনে ৭০ জন মানুষকে হত্যা করেছেন। তবে তার ষড়যন্ত্র সফল হবে না। এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হয়েছে। তারা দেশে শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। অবরোধ-হরতালের নামে মানুষ পোড়ানো এদেশের মানুষ আর সহ্য করবে না।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এস এ মালেক, নূহ-উল-আলম লেনিন, কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির, আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন নাহার লাইলি, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ইলিয়াস হোসেন মোল্লা, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, তারানা হালিম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি প্রমুখ।
বসুন্ধরা মার্কেট থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, এক মাসেরও অধিক সময় ধরে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করে বিএনপি জোট এখন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তবে জনগণ এখন সহিংসতা মোকাবিলায় রাজপথে নেমে আসছে। জনগণের প্রতিরোধের কাছে খালেদা জিয়া পরাজিত হতে বাধ্য হবেন। সন্ত্রাসীদের কাছে আমরা মাথানত করবো না। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি প্রমুখ।
মত্স্য ভবন থেকে কদমফুল ফোয়ারা, প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন মোড় পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সতীশ চন্দ্র রায়, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, ড. হাছান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আয়েশা খানম, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, বাসদের রেজাউর রহমান খান প্রমুখ।
গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল মোড় হয়ে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের আসলামুল হক আসলাম এমপি, সাবিনা আক্তার তুহিন এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির কামরুল আহসান, শরীফ শামসির প্রমুখ। শ্যামলী থেকে আসাদ গেট হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, এ কে এম রহমতউল্লাহ প্রমুখ। শাহবাগে কর্মসূচিতে ছিলেন আওয়ামী লীগের বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু প্রমুখ।
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), সহিংসতা বিরোধী সাংবাদিক সমাজ এবং জয় বাংলা সাংবাদিক মঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা আবদুল জলিল ভুঁইয়া, আলতাফ মাহমুদ, কুদ্দুস আফ্রাদ, এম শাজাহান মিয়া প্রমুখ অংশ নেন।
এছাড়া দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আর এর প্রতিবাদে গতকাল রবিবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল এসোসিয়েশনের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও আশুলিয়া বলিভদ্র বাজার ও জামগড়ায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে সাধারণ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। ওয়াসার মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
রাজশাহী অফিস জানায়, পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস ও নাশকতার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী ১৪ দল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার বিকেলে চারটা থেকে সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে রবিবার বিকালে শহরের ২নং রেলগেট সংলগ্ন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ১৪ দলের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট অফিস জানায়, দেশব্যাপী হত্যা, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে গতকাল বিকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ