রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’। যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। প্রদর্শনীটি চলবে ৯ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ‘ফিউচার ইজ হিয়ার’ শ্লোগানে দক্ষিণ এশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় এ উত্সব উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি জানান, উত্সবে সরকারি-বেসরকারি ‘ই-সেবার’ পসরা নিয়ে হাজির থাকছে ১২০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ১০০টি সরকারি সংস্থা। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প ও বিশ্ব বাস্তবতায় নতুন স্বপ্নের বীজ বুনতে সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে আগত ৮৫ জন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। চার দিনের প্রযুক্তি সম্মেলনে মোট ২৪টি সেমিনার, নয়টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার পাশাপাশি থাকছে চারটি পৃথক প্রদর্শনী।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সম্মেলনে ভাষা শহীদদের নামে ৫টি জোন থাকছে। এবারের সম্মেলনে আইসিটি অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি আগামী বছর থেকে প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হবে ‘লজ্জা পুরস্কার’।
সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি ভারপ্রাপ্ত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, বিসিসি নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল ইসলাম এবং বেসিসের মহাসচিব উত্তম কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৩টায় উদ্বোধনের পর থেকে সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে বর্ণাঢ্য এ আয়োজন। সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্যপ্রযুক্তির এ মিলনমেলায় থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
একের ভেতর চার: তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা উপস্থাপনে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’-এ থাকছে চারটি পৃথক প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে বেসিস সফট এক্সপো, ই-গভর্ন্যান্স এক্সপো, মোবাইল ইনোভেশন এক্সপো এবং ই-কমার্স এক্সপো। পাশাপাশি ই-কমার্স জোন, বিপিও ফোরাম, ডেভেলপারস ফোরাম, আইটি ক্যারিয়ার কনফারেন্স এবং আউটসোর্সিং ফোরামের মতো নানা উদ্ভাবনী উদ্যোগের পসরা নিয়ে হাজির থাকছে তরুণ প্রযুক্তিবিদরা।
সফটএক্সপো: বেসিস এর উদ্যোগে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সফটওয়্যার ও আইটি খাতের সর্ববৃহত্ মেলা হিসেবে বেসিস সফটএক্সপো ইতোমধ্যেই দেশের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি মেলায় পরিণত হয়েছে। গত বছর থেকে সফটএক্সপো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের অন্যতম অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫-তে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের ৭২টি স্টলে বেসিস সদস্য কোম্পানি দেশে তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার সলিউশন্স প্রদর্শন করবে।
ই-গভর্ন্যান্স: মেলায় প্রায় ১০০টি স্টল থেকে নানা ই-সেবা প্রদর্শন করবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর। মূলত ‘ই-গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যাবে।
ই-কমার্স: অনলাইনে ঘরে বসে কেনাকাটার নানা আয়োজন নিয়ে মেলায় থাকছে ৪টি প্যাভিলিয়ন, ১০টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২২টি স্টল। নিরাপদে অনলাইনে কেনাকাটার নানা অফারের পাশাপাশি নিজেদের সেবার পসরা নিয়ে হাজির হবে দেশি জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
মোবাইল ইনোভেশন: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপে বাংলাদেশের জয়যাত্রা তুলে ধরতে ৪২টি স্টলে থাকছে ‘মোবাইল ইনোভেশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এখানে বাংলাদেশি ডেভেলপার কোম্পানির জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। উইন্ডোজ, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের সহস াধিক দেশি অ্যাপ্লিকেশন থাকবে।
মিনিস্টেরিয়েল কনফারেন্স: প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৫টি দেশের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে থাকছে ‘মিনিস্টেরিয়েল কনফারেন্স’। বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া থেকে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। আয়োজনের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় মিডিয়া বাজার অনুষ্ঠিত হবে ৪ ঘণ্টাব্যাপী এই কনফারেন্স।
সেমিনার ও কর্মশালা: এসব প্রদর্শনী ছাড়াও সম্মেলনে থাকছে প্রায় ২০টি সেমিনার, ১১টি কনফারেন্স এবং ১৩টি টেকনিক্যাল সেশন, সিএক্সও নাইট এবং ক্লাউড ক্যাম্প। সেমিনারের মধ্যে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ১১টি, ই-গভর্ন্যান্স নিয়ে ১১টি এবং ৩টি স্পেশাল সেশন রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি মিলনমেলা: বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মেধা অন্বেষণসহ তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার, প্রকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সফল আইটি ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ আয়োজনে ২৫টিরও বেশি দেশ থেকে যোগ দিচ্ছেন ৮৫ জন আইটি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও টেকনিক্যাল সেশনে অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন তারা।
বিশেষ আয়োজন: প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণে টেক উইমেন কনফারেন্স, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কনফারেন্স অন আইটি ক্যারিয়ার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের নিয়ে ‘টাইটেনিয়াম কনফারেন্স’।
ইন্টারনেটে সম্প্রচার: মেলায় অনুষ্ঠিত সেমিনার, কর্মশালা এবং কারিগরি সেশন ছাড়াও মেলার বিভিন্ন আয়োজন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/DigitalWorldBangladesh) মেলার সব ধরনের আপডেট পাওয়া যাবে। ইউটিউবেও পাওয়া যাবে এসব আয়োজনের ভিডিও লিংক। ওয়েব ঠিকানা : www.digitalworld.org.bd
আরো যা থাকবে: প্রদর্শনীতে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে এক্সপেরিয়েন্স জোন। এখান থেকে গুগল বাস, ই-ব্রেইল ছাড়াও ভবিষ্যত্ প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেয়া যাবে। থাকছে সেলফি বুথ ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা, এলইডি স্ক্রিনে মেলার উল্লেখযোগ্য আয়োজন সরাসরি সম্প্রচার ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে মেলার সর্বশেষ তথ্য জানার সুবিধা।