নেত্রকোনায় পৃথক মামলায় ১ জনের ফাঁসি, অপরজনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৫:০৭
নেত্রকোনা সোমবার হত্যা এবং এসিড সন্ত্রাস মামলার পৃথক দুটি  রায়ে দুই ব্যক্তির ফাঁসি এবং এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার উত্তর বিরামপুর গ্রামের কানু তালুকদারকে (৫০) হত্যার অভিযোগে একই গ্রামের বকুল মিয়া (৪৮) এবং আনোয়ার হোসেনকে (২৭) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে । নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলাও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ সোমবার বেলা একটায় এ রায় প্রদান করেন। রায়ে গলায় দঁড়ি দিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।  মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির মধ্যে প্রধান আসামি বকুল মিয়া ঘটনার পর থেকেই পলাতক। মামলার তৃতীয় আসামি বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বকুল মিয়ার পুত্র উত্তর বিরামপুর গ্রামের কানু তালুকদারের কন্যাকে বিয়ে করার পর থেকেই উভয় পরিবারের মধ্যে বিবাদ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়। কানু তালুকদার এ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় দিন দিন তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। বকুল মিয়া তখন  কানুকে হত্যার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং ২০০৮ সনের  ১০ মে গভীর রাতে বকুল তার সহযোগী আনোয়ারকে নিয়ে কানু তালুকদারের ঘরে প্রবেশ করে কুড়াল দিয়ে কানুকে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন কানুর পুত্র কাঞ্চন তালুকদার মোহনগঞ্জ থানায় বকুল মিয়াসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা  করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল  করলে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট মো. সাইফুল আলম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট জসীম উদ্দিন।
এদিকে সোমবার একই আদালত  কেন্দুয়া উপজেলার আরামবাগের বিমল পালের উপর এসিড নিক্ষেপে শরীর ঝলসিয়ে দেয়ার মামলায়  কেন্দুয়ার পিছাহাতি গ্রামের ইসলাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হলে ২০০০ সনের ৭ জুন রাতে ইসলাম উদ্দিন তার বাড়িতে এসে বিমলের মুখমণ্ডলসহ শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে বিমলের মুখসহ শরীর ঝলসে যায়। বিমলের স্ত্রী কানন রানী বাদি হয়ে মামলা করলে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় প্রদান করেন।