নাশকতা সৃষ্টিকারী দেশ ও মানবতার শত্রু:প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:১৫
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা পেট্রলবোমা মেরে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মতো অমানবিক কাজ করছে তারা দেশ, মানবতা ও জনগণের শত্রু। দেশবাসী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’ বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধের নামে চলমান সহিংসতাকে ‘মানবসৃষ্ট দুর্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করে তা কাটিয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
 
সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে চার দিনের এই মেলা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
 
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কিছু মানুষের সৃষ্টি করা দুর্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এই দুর্যোগ আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থা এমন, এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগও যেমন মোকাবেলা করতে হয়, তেমনি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগও মোকাবেলা করতে হয়।’
 
কারো নাম উল্লেখ না করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি গিবত গাইতে চাই না। কারো কথা বলতে চাই না। তবে যারা দেশের উন্নয়ন চোখে দেখেন না, চোখ থাকতেও যারা অন্ধ, যারা দেশকে উন্নয়নের পথ থেকে তুলে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চান, দেশবাসী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
 
বিজ্ঞান প্রযুক্তির জ্ঞান নিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার নতুন প্রজন্মকে তথ্য-প্রযুক্তিতে সক্ষম করে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। আর ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ।’
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন।  মেলায় ২৫টি দেশের ৮৫ জন বিদেশি বক্তা ২৪টি সেমিনার, নয়টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিবেন।