জাতীয় সংকট নিরসনে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতীয় সংলাপের তাগিদ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছেন নাগরিক সমাজ।
সোমবার সন্ধ্যায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদার স্বাক্ষরিত এই চিঠি খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছে দেন ‘নাগরিক সমাজে’র পক্ষে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট প্রিন্স চঞ্চল মাহমুদ। চিঠি নিয়ে চঞ্চল মাহমুদ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে গেট থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে তার বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নাগরিক সমাজের চিঠিটি গ্রহণ করেন।
পরে প্রিন্স চঞ্চল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য সব রাজনৈতিক পক্ষকে একটি জাতীয় সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন ড. কামাল হোসেন ও এটিএম শামসুল হুদা। সবাই মিলে কথা বললে-আলাপ করলে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলেও মনে করেন তারা। আর সে ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে এই জাতীয় সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য যে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’ আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
’বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না’- বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দুইদিন পর সংকট নিরসনে একটি জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে এই চিঠি দিলেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।
এর আগে শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আয়োজনে ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনা হয়।
ওই আলোচনা থেকে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির অনড় অবস্থানের মধ্যেই সংকট নিরসনে একটি জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান বিশিষ্ট নাগরিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাতপূর্ণ অবস্থার উত্তরণ ছাড়াও দেশে যাতে স্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকে, সব দলের জন্য পালনীয় এমন একটি জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) তৈরি করাও এ সংলাপের প্রধান আলোচ্য বিষয় করা হবে|
