আড়াই বছরের ফুটফুটে শিশু জুঁই মিছিল দেখার জন্য তার বাসার সামনে রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিষ্পাপ শিশুটির কল্পনাতেও ছিল না যে সে দুর্বত্তদের টার্গেট হতে পারে। তাছাড়া বোমা-ককটেল ইত্যাদির ধ্বংসাত্মক শক্তি বোঝার বুদ্ধিও তার হয়নি। মিছিল থেকে সেই কোমলমতি শিশুটির গায়ে হঠাত্ করে একটি বোমা ছুড়ে মারা হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বুক পুড়ে গিয়ে রক্তাক্ত জুঁই। ছোট্ট মেয়েটির সেই পোড়া বুকই যেন হয়ে উঠেছে বার্ন ইউনিটে আসা রোগীদের বিভত্সতা ও কান্নার জীবন্ত প্রতীক।
এ ঘটনা ঘটে গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্রা?হ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায়। বোমায় তার বুকের মাংস উড়ে যায়। শুধু ‘মা’ শব্দ ছাড়া আর কিছু বলতে পারেনি জুঁই। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে রাস্তায়। বুকের ও পিঠের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায় তার। প্রতিবেশী দুই ব্যক্তি ভবনের ছাদ থেকে বোমার বিকট শব্দ শুনতে পান। তারা নীচে এসে দেখেন রাস্তার পাশে বুক পুড়ে যাওয়া ও ক্ষত-বিক্ষত শিশুটি পড়ে আছে। তাদের চিত্কারে ছুটে আসেন শিশুটির মা-বাবাসহ আশেপাশের লোকজন। একমাত্র সন্তানের এ অবস্থা দেখে মুর্ছা যান ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফিয়া বেগম। বাবা জজ মিয়া রাস্তার লুটিয়ে পড়েন। জুঁইকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। ঘণ্টাখানেক পর জজ মিয়া ও তার স্ত্রীর জ্ঞান ফিরে আসে। জুঁইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয় ঘটনার রাতে।
শনিবার বার্ন ইউনিটে ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটির শয্যাপাশে তার দাদী হেলেনা বেগম অঝোরে কাঁদছেন। তিনি বলেন, ‘আমাগো উপর কেন ওরা বোমা মারে। আমার নাতনী শিশু, যে এখন ঠিকমত কথা বলতে ও বুঝতে পারে না। তাকে কেন বোমা মেরে এই হাল করা হলো? আমরা গরীব মানুষ, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে বলতে পারি না।’ দাদীর দুই চোখ বেয়ে পানি ঝরতে থাকে। জুঁইও দাদীর চোখের পানি দেখে অঝোরে কাঁদছিল।
শিশুটির শয্যাপাশে ছিলেন একজন চিকিত্সক ও নার্স এবং আশেপাশে চিকিত্সাধীন পোড়া রোগীর স্বজনরা। তারাও শিশুটির কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চিকিত্সক ও নার্স তখন বলে উঠেন, পাষণ্ডদের চরম নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার শিকার নিষ্পাপ শিশুটি।
