নাশকতায় দগ্ধদের প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:২৭

অবরোধ-হরতালে দগ্ধদের প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার আলী সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন ৬৩ জন পোড়া রোগীকে এ আর্থিক অনুদান দেয়ার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর ও বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন এবং এর বাইরে অন্যান্য হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দগ্ধ রোগীরা একই পরিমাণ আর্থিক অনুদান পাবেন। যারা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন তারাও পাবেন এই আর্থিক অনুদান। অবরোধ-হরতালে প্রকৃত দগ্ধ সকলকে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুদানের অর্থ দগ্ধ ব্যক্তিদের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র হিসেবে দেয়া হবে। এ সঞ্চয়পত্র থেকে প্রতিমাসে দগ্ধ ব্যক্তিরা ১০ হাজার করে টাকা পাবেন। পোড়া ব্যক্তির অবর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা এ অর্থ ভোগ করবেন।
সহিংস ঘটনায় দগ্ধ রোগীদের প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তাদের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন ও হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দগ্ধদের পরিবারের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে, খেটে খাওয়া লোকটি দগ্ধ হওয়ার পর তার আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে পরিবার যেন আর্থিক সংকটে না পরে সেজন্য নগদ অনুদান দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কিংবা রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দগ্ধ রোগীদের খোঁজ-খবর রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার আলী সেলিমকে। ঢাকার বাইরে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দগ্ধ রোগীদের ঐ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কিংবা সংসদ সদস্যের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। নেতাদের নিয়মিত চিকিত্সাধীনদের খোঁজ-খবর রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ইতিমধ্যে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিক ও শাহরিয়ার হূদয়কে চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বোমার আঘাতে তারা দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর এ বছর পরীক্ষা দেয়া হলো না। এছাড়াও বোমায় আহত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল কাদের ও দগ্ধ ট্রাক চালক মো: লিটন মিয়াকে চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে দগ্ধদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে দগ্ধদের পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল বার্ন ইউনিটে রেফার করা দগ্ধ রোগীদের যাতায়াত খরচও সরকার বহন করছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন বগুড়ার ব্যবসায়ী সাজু (৩০), ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইলের নিরাঞ্জন (১৯), সাভারের অটোচালক আবদুর রশীদ (৩৫), যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইলের ট্রাক হেল্পার জাহাঙ্গীর (৩৫) জানান, তাদের আয়ের উপর চলতো সংসার। এখন হাসপাতালে চরম যন্ত্রণায় তারা কাতরাচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের পরিবার চরম দুর্দশার শিকার হয়। এ ব্যয়বহুল চিকিত্সার খরচ যোগান তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সত্যিকার অর্থে দগ্ধ যন্ত্রণা তারা ভুলে গেছেন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট থাকছে না। তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।