না থেকেও শীর্ষে হুমায়ূন

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০১:১৩

হুমায়ূন আহমেদ নেই, চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তবুও তিনি আছেন। পাঠকের হূদয়ে, বইমেলার সবুজ চত্বরে মিশে আছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পরেও অপ্রকাশিত রচনাবলী প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হচ্ছে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের লেখা। রয়েছে মূল্যায়ন, রয়েছে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ। বাঙালি পাঠকের কাছে হুমায়ূন আহমেদ এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁকে ভোলা সম্ভব নয়। দেশের প্রকাশনা জগতকে যে মানুষটি একাই টেনে তুলেছেন সেই মানুষটি বইমেলা থেকে হারিয়ে যাবেন এতো হতে পারে না।

মেয়েকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন রায়েরবাজারের বাসিন্দা সমীরণ পাল। তিনি বললেন, হুমায়ূন আহমেদের যেসব বই সংগ্রহে নেই সেগুলো কিনবো। প্রতিবছর মেলায় এসে হুমায়ূনের নতুন বই কেনা অভ্যাস হয়ে গেছে। তিনি নেই কিন্তু তার লেখা আমাদের সবসময়ের সঙ্গী। তিনি এই বইয়ের মধ্যেই আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
হুমায়ূন আহমেদের অনেক বই প্রকাশ পেয়েছে অন্যপ্রকাশ থেকে। গত দুইবারের মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদের আলোকচিত্র দিয়ে সাজিয়েছে নিজেদের স্টলটি। উপরে তার বিশালাকৃতির আলোকচিত্রের দুই পাশে তার দুইটি পান্ডুলিপির প্রতিচ্ছবি। একটি তার মিসির আলী সিরিজের শেষ বই ‘যখন নামিবে আঁধার’ ও হিমু সিরিজের ‘হলুদ হিমু কালো র্যাব’। যার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তুলে নিচ্ছেন আলোকচিত্র।
অন্যপ্রকাশ এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই বিক্রির শীর্ষে। অন্যপ্রকাশের স্টল থেকে জানালো, এ বছর হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র চিত্রনাট্য প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া তার রচনাবলীর নবম খণ্ড ও শিশু-কিশোর রচনাবলীর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হবে। তাকে নিয়ে লেখা দুইটি বইও প্রকাশ পাচ্ছে। এগুলো হলো–মুনীর আহমেদের ‘ হুমায়ূন আহমেদ : যত গল্প’ ও ফানসু মন্ডলের ‘বন্ধু হুমায়ূন: নিউইয়র্কের দিনগুলো’। এছাড়াও সময়, কাকলী, অবসরসহ হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের অন্যান্য প্রকাশনীগুলোতেও হুমায়ূনের বই বিক্রির শীর্ষে।
ইন্দ্রজিত্ সরকারের ‘স্বর্ণমূর্তি উধাও রহস্য’
মেলায় এসেছে তরুণ সাংবাদিক ইন্দ্রজিত্ সরকারের কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস ‘স্বর্ণমূর্তি উধাও রহস্য’। শুভ্রপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে গতকাল সোমবার। নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন করেন কবি ও বিটিভির পরিচালক (বার্তা) নাসির আহমেদ এবং কবি রবীন্দ্র গোপ। জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে উত্সর্গ করা বইটির মূল্য ১৩৫ টাকা।
নতুন বই :একাডেমির তথ্যকেন্দ্র এবং সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার মেলার নবম দিনে নতুন ১২৯টি বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ২১, উপন্যাস ১৭, প্রবন্ধ ৯, কবিতা ৩৭, গবেষণা ৬, ছড়া ২, জীবনী ৬, মুক্তিযুদ্ধ ৩, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ২, কম্পিউটার ১,     রম্য/ধাঁধা ১, সায়েন্স ফিকশন ২ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর এসেছে ২১টি বই।
এর মধ্যে নান্দনিক থেকে এসেছে আহমদ মোস্তফা কামালের ‘একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়’, প্রগতি  থেকে এসেছে আহসান হাবীবের ‘ড়ড়সের প্যারাডক্স’, আগামী  থেকে এসেছে মুহিত উল আলমের ‘ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সাদাকালো’ ও আহমদ শরীফের ‘বাংলার বিপ্লবী পটভূমি’, অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে পূরবী বসুর ‘কিংবদন্তীর মনা ও খনার বচন’, প্রভাষ আমিনের ‘প্রষূণদের জন্য ভালোবাসা’, কথাপ্রকাশ  থেকে এসেছে শামসুজ্জামান খানের ‘বাংলার গণসংগীত’, পিয়াস মজিদের ‘কামু মার্কেস ইলিয়াস ও অন্যান্য’।
মেলামঞ্চের আয়োজন :সোমবার মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিশততম জন্মশতবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. আমিনুর রহমান সুলতান এবং ড. মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করেন মোরশেদ শফিউল হাসান।
প্রাবন্ধিক বলেন, ঊনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন স্রষ্টা এবং কর্মযোগী মানুষ। জন্মের পর দু’শ বছর অতিক্রান্ত, মৃত্যুর পরও আমরা পেরিয়ে এসেছি একশ’ বত্রিশ বছর– তবু বাংলাভাষী মানুষের কাছে এখনো তিনি এক স্মরণীয় নাম। ভাষাবিদ্রোহী, সমাজনিষ্ঠ কথাকার, মানবউন্নয়ন সংগঠন, সাংবাদিক, অধ্যাত্মচিন্তক– নানাভাবে তাঁকে আমরা স্মরণ করতে পারি। দ্বিশততম জন্মবর্ষের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্যারীচাঁদের কর্ম ও সাহিত্যসাধনা বিচার করতে বসলে তাঁকে অনায়াসেই ঊনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলোকিত মানুষ হিসেবে শনাক্ত করা যায়। ঊনিশ শতকের লেখক হলেও, প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমাত্রিক কারণে এখনো আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হতে পারেন।’

আজকের অনুষ্ঠান :আজ মঙ্গলবার বিকেলে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জাতীয় নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নব্বইতম জন্মবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন  ড. মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম এবং ড. এম. অহিদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করবেন কমরেড অজয় রায়।