প্রায় কোটি টাকা খরচ করেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের ঘটনার তিন বছরে তদন্তের ফলাফল এখন পর্যন্ত 'শূন্য'। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, খুনিদের গ্রেফতার কিংবা চিহ্নিত কিছুই করতে সক্ষম হয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তদন্তে কোনো অগ্রগতি না দেখে বিচারের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা। তদন্তকারী সংস্থা র্যাবের কাছে এখন এ হত্যাকাণ্ডে পৃথক দুইটি ডিএনএ নমুনা ছাড়া কিছুই মিলেনি। র্যাব দাবি করেছে, ঘাতক যারাই হোক তাদের সঙ্গে ঐ দুই ডিএনএ নমুনার মিল থাকবে। কিন্তু দেশের অপরাধী চক্রের ডিএনএ নমুনার ডাটাবেজ না থাকায় ঐ দুই ডিএনএ নমুনা দিয়ে সন্দেহভাজন ঘাতকদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
র্যাব এখন সাগরের ব্যবহৃত দুইটি ল্যাপটপের সন্ধান করছে। খুনের দিন তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ দুইটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। র্যাব ধারণা করছে, ঘাতকরা ঐ দুইটি ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। র্যাব এই দুই ল্যাপটপ উদ্ধারের জন্য মাঠে কাজ করছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২, রশিদ লজ এ্যাপার্টমেন্টের ৫ম তলার ফ্ল্যাট মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে র্যাব তদন্ত করছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রতি মাসে একবার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কর্মকর্তা। এ পর্যন্ত আদালতে ৩২টি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন দেয়া হয় গত ২ ফেব্রুয়ারি। তবে প্রতিটি প্রতিবেদনের ভাষাই এক। তাতে রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বলা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ তিন বছর পার হয়ে গেলেও খুনিদের শনাক্ত করতে না পারায় ক্ষোভ আর হতাশা ব্যক্ত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। মামলার বাদী ও নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, 'তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তাদের কিছু জানানও না।'
