জেগে উঠেছে মেলা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:০২

সব স্টলেই চলে এসেছে নতুন বই। জনপ্রিয় লেখকদের বইও কমবেশি আসছে। নতুন বই আর বইপ্রেমীদের আগমনে জড়তা কাটিয়ে পুরোপুরি জেগে উঠেছে বইমেলা। প্রতিদিনই তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। তারাই জমিয়ে রাখেন মেলা। তাদের সেলফি তোলা, দল বেঁধে আড্ডা—মেলাকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

এদিকে বইমেলাকে কেন্দ্র করে টিএসসির প্রবেশ পথের ফুটপাতেও দোকানিরা সাজিয়ে বসেছেন হরেক রকমের পসরা। ‘আল্পনা বাহিনী’ শিশুদের গালে, মুখে এঁকে দিচ্ছে একুশের স্মারক। বইমেলা ঘিরে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই বাড়তি উত্তেজনা। আড্ডা, হুল্লোড়ে মেতে উঠতে বইমেলায় আসছেন সবাই, কিনছেন বই।
গতকাল মঙ্গলবার সঙ্গীতজ্ঞ মুস্তাফা জামান আব্বাসী সস্ত্রীক এসেছিলেন মেলায়। এদিন ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন গ্রন্থ ‘রাসুল (স.)-এর পদপ্রান্তে’। এসেছিলেন লেখক ইমদাদুল হক মিলন ও আনিসুল হক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছও এসেছিলেন। এবার নালন্দা থেকে বের হয়েছে তার নতুন বই ‘ভাষার লড়াই ও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন’। এদিন নজরুল মঞ্চে নতুন ছয়টি বইয়ের মোড়ক খোলা হয়। এর মধ্যে অন্বেষা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত চিত্রনায়িকা কুসুম সিকদারের ‘নীল ক্যাফের কবি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
ই-তথ্য কেন্দ্র উদ্বোধন: অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে গতকাল বিকালে বর্ধমান ভবনে বাংলা একাডেমির ই-তথ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ই-তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রন্থমেলার স্টলসমূহের অবস্থান, মেলার প্রতিদিনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অতিদ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
মেলা উপলক্ষে এবার ৯৫টি গ্রন্থ প্রকাশ করছে একাডেমি। বই বিক্রিও হচ্ছে বেশ। একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্র ও স্টলগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে। জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মুর্শিদ্দুদিন আনোয়ার জানালেন, প্রথম নয়দিনে বাংলা একাডেমি ৩০ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।
এসেছে ১২৫ নতুন বই:একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপ-বিভাগ জানায়, দশম দিনে মেলায় এসেছে ১২৫টি নতুন বই। এর মধ্যে ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ হাসান আজিজুল হকের ‘নির্বাচিত গল্প’, যতীন সরকারের ‘শিক্ষাবিষয়ক প্রবন্ধ’, হায়াত্ মামুদের ‘অমর একুশে’, অনন্যা মহাদেব সাহার ‘ভুলে যাওয়ার চেয়ে ভালো কিছু নেই’, ঐতিহ্য মুহাম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস ভাষান্তরিত শেরশাহ সূরী :বিদ্যা ভাস্বর’, কথাপ্রকাশ বদরুদ্দীন উমরের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস চর্চা, মোকাররম হোসেনের ‘জীবনের জন্য বৃক্ষ’ ও ‘বাংলাদেশের নদী’, অ্যাডর্ন আখতার উদ্দিন মানিকের ‘শাহজাদপুর কৃষক বিদ্রোহ ও ঠাকুর জমিদার’, মিজান পাবলিশার্স রবীন্দ্র গোপের ‘মাধবী’, ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীর ‘নেতা, নেত্রী ও নেতৃত্ব’, সময় আনিসুল হকের ‘মায়ের কাছে যাবো’, ধ্রুব এষের ‘মনে পড়ে এই হেমন্তের রাতে’, শ্রাবণ প্রকাশনী সুকুমার রায়ের ‘বাংলাদেশের দুঃখ কথা’, শুদ্ধস্বর ফারুক মাহমুদের ‘নির্বাচিত শত পদ্য’, র্যামন কর্নেল (অব.) এসএম শওকত আলীর ‘আমার ভাবনাগুলো’, হাওলাদার প্রকাশনী বিপ্লব রহমানের ‘পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ’, উত্স প্রকাশন মাহবুব সাদিকের ‘সমুদ্র পাখিরা’ ও জাগৃতি গোলাম মোর্তোজার ‘কথার কথা’ মেলায় এনেছে। আজ বুধবার মেলার দ্বার খুলে দেয়া হবে বিকাল তিনটায়। চলবে সাড়ে আটটা পর্যন্ত।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান: গতকাল গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নেতা শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নব্বইতম জন্মবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ সামাদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম এবং ড. এম. অহিদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন কমরেড অজয় রায়।
প্রাবন্ধিক বলেন, জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম নানা দিক থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অসামান্য ব্যক্তিত্ব। ছাত্রজীবন থেকে প্রজ্ঞা, মেধা এবং বাংলা ও বাঙালির প্রতি অবিচল আস্থা ও অঙ্গীকার তাঁর রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করেছে।
অজয় রায় বলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিক পাটাতন নির্মাতাদের একজন। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে আমরা বর্তমান সংকটময় সময়ে পথচলার দিকনির্দেশনা পেতে পারি।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল দীপা খন্দকারের পরিচালনায় ‘দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী মহিউজ্জামান চৌধুরী, বুলবুল মহলানবীশ, শারমিন সাথী ইসলাম প্রমুখ।

ওয়ালিউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার:সম্প্রতি বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক-শিল্পীদের জন্য পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। পুরস্কারের নাম ওয়ালিউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার। এবার এই পুরস্কার পেয়েছেন কানাডা প্রবাসী লেখক ইকবাল হাসান ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল। মেলার সমাপনী দিনে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা।