গাজীপুর সিটি মেয়র মান্নান গ্রেফতার

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:০৭
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারার ডিওএইচএস-এর ৬ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে গাজীপুর পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিবি অফিসে আনা হয়।
জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন নলজানী এলাকায় ঢাকা-গাজীপুর সড়কে ঢাকাগামী বলাকা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলও এ মামলার অন্যতম আসামি।
এছাড়া গত ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে মেয়র মান্নন, জেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মিলনসহ ৩০ নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। গাজীপুর মহানগরীর বড়বাড়ি এলাকায় একটি মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনা ভাংচুরের অভিযোগে এমএ ফরিদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো ১৫/২০জনকে আসামি করা হয়।
গত ৯ নভেম্বর গাজীপুরে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দান, পুলিশ সদস্যদের লাঠিসোঠা ও ইট পাটকেল দিয়ে আহত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে প্রধান আসামি করে জয়দেবপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৩০০-৪০০ অজ্ঞাত নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
জয়দেবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাহমুদুল হাসান-২ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পূর্বের দুটি মামলায় মেয়র আদালত থেকে জামিন লাভ করলেও সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন।
 
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম সন্ধ্যায় তার অফিস কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংএ জানান, মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতার পরিকল্পনাকারী, অর্থের যোগানদান ও উস্কানিদাতা হিসেবে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার হুকুমে শিল্পকলকারখানার পণ্যবাহী বিভিন্ন ট্রাকসহ যানবাহনে আগুন দেয়া হতো। তার বিরুদ্ধে শিল্পকলকারখানা অচল করে দেয়ার জন্য শ্রমিকদের প্ররোচণা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আদালতে তাকে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।
এদিকে সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে গ্রেফতারের পর জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।