বগুড়া গাবতলীতে বুধবার বসেছিল প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। মেলার দিন দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আনা হয় হরেক প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ। এরমধ্যে প্রায় দুই মণের মতো ওজনের বাঘাইড় মাছগুলো নজর কাড়ে সকলের।
মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী ২০টি গ্রাম আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। উত্সবের মধ্যে দিয়ে বুধবার থেকে শুরু হওয়া গাবতলীতে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলামূলত একদিনের মেলা হলেও চলে ২ দিন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন সেখানে বসবে ‘বৌ মেলা’। এদিন এ মেলায় ক্রেতা বিক্রেতা থাকবেন এলাকার বৌঝিরা। শুধুই নারীদের জন্য এই বিশেষ মেলার আয়োজন করাটাও গত প্রায় ২৫ বছর ধরে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেখানে শুধু নারীদেরই থাকবে প্রবেশাধিকার।
পোড়াদহ মেলায় প্রসাধনী সামগ্রী, হরেক রকমের খাবারের দোকান এবং শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলার সামগ্রী বসলেও এখানকার প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন ধরনের বড় বড় মাছ। বিশেষ করে বিশাল বিশাল বাঘার মাছ কেনার জন্যই মানুষ মেলায় আসেন। অনেকে এই মেলাকে বলেন, মাছের মেলা। এবার মেলায় ২ মণেরও বেশি (৮৫ কেজি) ওজনের বিশাল একটি বাঘাইর মাছ উঠেছিল, যা বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকায়।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আইয়ূব আলী, রমিছ মিয়া ও সুকান্ত সেন জানান, দুই’শ বছর আগে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহ নামকস্থানে একটি বটবৃক্ষ তলে বিভিন্ন স্থান থেকে এসে সন্ন্যাসীরা আস্তানা গাড়েন। এর প্রায় ৫০ বছর পর স্থানীয়রা এখানে সন্ন্যাসী পুজার পাশাপাশি গোড়াপত্তন করেন ঐতিহ্যবাহী এই মেলার। সেই থেকে প্রতিবছর মেলাটি মাঘ মাসের শেষ বুধবার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়ার বাসিন্দাদের মিলনমেলা। নদী তীরবর্তী স্থানে এই মেলায় দিনকে দিন নানা প্রজাতির মাছের আমদানি হতে শুরু করে। এক সময় তা এই অঞ্চলে মাছের মেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ইছামতীর খালের পশ্চিমপাশে ধু ধু মাঠের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে এই মেলায়।
বর্তমানে এটি এখন গোটা বগুড়াবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। মেলা উপলক্ষে সেখানকার বাসিন্দাদের রেওয়াজ হয়ে উঠেছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো। মেলায় শিশু কিশোরদের জন্য রাখা নাগরদোলা, হোন্ডা খেলা, বিভিন্ন প্রকার খেলনা ও হরেক রঙের বেলুন দূর থেকেই দৃষ্টিকাড়ে দর্শনার্থীদের। মেলার একপাশে বসেছিলো গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিশেষ করে মসলাপাতির দোকানপাট। অপর পাশে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান। সেইসাথে হরেক রকমের মিষ্টির দোকন তো রয়েছেই ।
মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছপট্টিতে। বিশাল আকৃতির বাঘাইড় ছাড়াও উঠছিলো বড় বড় চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা ও শোল মাছ। মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় ৮৫ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ বিক্রি হয় হয় ৯০ হাজার টাকায়, এছাড়াও ২০ কেজি ওজনের একটি বোয়াইল মাছ দাম হাকাহয় ৪০ হাজার টাকা, ক্রেতারা দাম করেন ৩০ হাজার টাকা, ১৮ কেজি ওজনের চিতল মাছ দামহাকা হয় ১৮ শত টাকা কেজিদরে। এছাড়া ৫৭ থেকে ৬৪ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি, ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ বিক্রি হয় এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে। এছাড়া ১৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা কেজি। ৪ থেকে ৬ কেজি ওজনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় মেলায়।
