বঙ্গোপসাগরে জরিপ চালাবে পেট্রোবাংলা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫০

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আগে বঙ্গোপসাগরে দ্বিমাত্রিক জরিপ পরিচালনা করবে পেট্রোবাংলা। পানির নিচে ২০ মিটার থেকে আড়াই হাজার মিটারের বেশি গভীরতায় এ জরিপ পরিচালনা করা হবে। বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে এ জরিপ করানো হবে। জরিপের ফলে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, তা বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) কাছে বিক্রি করা হবে।  পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, জরিপের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র জমা দিতে হবে। কমপক্ষে তিনটি দেশে জরিপ পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিতে পারবে।

সূত্র জানিয়েছে, এই জরিপে বাংলাদেশ কোন বিনিয়োগ করবে না। জরিপে যে তথ্য পাওয়া যাবে তার মালিক  থাকবে বিদেশি কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানিরই শুধু সেই তথ্য বিক্রি করার ক্ষমতা থাকবে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিক্রি করে বিনিয়োগের টাকা পরিশোধ করার পরই মুনাফা ভাগাভাগি করা হবে। জরিপ পরিচালনায় মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করা হবে।
সূত্র বলেছে, চুক্তির পরে প্রায় ১৮ মাস লাগবে জরিপ শেষ করতে। এক বা একাধিক কোম্পানিকে এলাকা ভাগ করে জরিপ করার অনুমতি দেয়া হতে পারে। কোন অংশে কিভাবে কাজ দেয়া হবে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। তবে জরিপের ফলে সমুদ্রে অনুসন্ধান কাজে অনেক কোম্পানি আগ্রহী হবে। তথ্য-উপাত্ত থাকলে চুক্তি করার ক্ষেত্রে সমঝোতা করাও সহজ হবে।
ইতিমধ্যে জরিপ করতে বিদেশি কোম্পানির সাথে যে চুক্তি করা হবে তার এটা খসড়া করা হয়েছে। খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর জ্বালানি বিভাগের অনুমতি নিয়ে পেট্রোবাংলা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আগে সেখানে দ্বিমাত্রিক জরিপের কাজ এই প্রথম করা হচ্ছে। সাধারণত যে কোম্পানির সাথে উত্পাদন বণ্টন চুক্তি করা হয় তারাই দ্বিমাত্রিক কিংবা ত্রিমাত্রিক জরিপ করে তথ্য নিয়ে থাকে। ভূকাঠামোসহ অন্য কিছু তথ্য পেট্রোবাংলা দেয়। এবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবানের আগেই বিদেশি কোম্পানি নিয়ে দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
সমুদ্রের কোন কোন এলাকায় তেল গ্যাস অনুসন্ধান হবে তা ভাগ করা হয়েছে। গভীর ও অগভীর সমুদ্রে যেসব এলাকায় এখনও কোন অনুসন্ধান হয়নি পুরোটা জুড়েই অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। গত বছর ভারতের সাথে আর দুই বছর আগে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর প্রায় এক লাখ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তির পর কয়েক দফায় দরপত্র ডেকেও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি পেট্রোবাংলা। অধিকাংশ ব্লকে দরপত্র জমা পড়েনি। কয়েকটি ব্লকে জমা পড়েছে একক দরপত্র। তাই কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাজ পেয়েছে বিদেশি কোম্পানি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে গভীর ও অগভীর সাগরের ১২টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে গভীর সাগরের তিনটি ব্লকের জন্য কোন আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়নি। শুধু অগভীর সাগরের ৯টি ব্লকের জন্য দর প্রস্তাব জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাইয়ে সাত নম্বর ব্লকে কনোকো এবং চার ও নয় নম্বর ব্লকে ওএনজিসিকে নির্বাচিত করা হয়। ২০১৩ সালের মে মাসে আবার অগভীর সাগরের ছয়টি ব্লকের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এতে শুধু ১১ নম্বর ব্লকের জন্য স্যান্টোস ও ক্রিস এনার্জি যৌথভাবে দর প্রস্তাব দাখিল করে।