প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনীতি নয়, খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধের নামে দস্যুবৃত্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে হত্যা করছেন। খালেদা জিয়া একজন খুনি। নিরীহ মানুষের লাশের ওপর দিয়ে উনি ক্ষমতা দখল করতে চান।
প্রতিটি নাশকতার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তদন্তে প্রমাণ মিললে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বাংলার মাটিতেই তার বিচার করা হবে।
গতকাল বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দস্যুতা, জঙ্গিবাদ কর্মকাণ্ড এবং বীভত্স্য কায়দায় মানুষ হত্যার কারণে দেশবাসী চাইলে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি এমনিতেই নিষিদ্ধ হবে। কারণ এদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার জন্য যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন আমরা তা হবো। বিএনপি নেত্রীকে বলবো এই নাশকতা বন্ধ করুন, নইলে এ দেশের জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।
নাশকতাকারী, তাদের হুকুমদাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের পাশাপাশি উস্কানি দাতাদেরও খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে— এমন ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী ঘর থেকে বের হয়ে দলীয় কার্যালয়ে থেকে মানুষ হত্যার হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। জনরোষ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দলীয় কার্যালয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন। উনি যেসব অপকর্ম ও বীভত্স্য কর্মকাণ্ড করছেন, তার বিরুদ্ধে দেশের জনগণ ফুঁসে উঠেছে। দেশের মানুষ এমনই ক্ষেপে গেছেন যাতে যে কোন সময় ওই কার্যালয়ে আক্রমণ হতে পারে। এটা বুঝেই উনি কার্যালয়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দেশে আইনের অভাব নেই। নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল না হলেও আলাদা একটি বিশেষ আদালত গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনারা অনেক কথা বলেন। দেশবাসী ভেবেছিল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তারা বিএনপি নেত্রীকে হরতাল-অবরোধের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা বন্ধ করতে বলবেন, হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে অনুরোধ জানাবেন; কিন্তু সাক্ষাতের সময় তারা এ বিষয়ে একটি কথাও বলেননি। এরা একাধারে রাজনীতিও করেন, আবার সুশীলও সাজেন। আবার অনেকেই টকশোর মাধ্যমে সহিংসতা-নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন, মনিটরিং করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। উস্কানিদাতারাও এসব খুন-খারাবির দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা এতো বড় বড় কথা বলছেন তারা কী কখনো বার্ন ইউনিটে গেছেন? আহত-নিহতদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন? উনারা বসে আছেন খালেদা জিয়া মানুষ হত্যা করে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন, সেই পথ দিয়ে তারা ক্ষমতায় যাবেন; কিন্তু তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা কোনদিন পূরণ হবে না। তাদের আশা নিরাশা হয়েই থাকবে। দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়া লাশ ফেলবেন, আর উনারা ক্ষমতায় যাবেন- দেশের জনগণ তাদের সেই সুযোগ দেবে না।
তিনি বলেন, দেশে কিছু একটা ঘটবে এই আশায় খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে বসে আছেন। কী ঘটনা ঘটবে? কেউ এসে তাকে কোলে তুলে নিয়ে ক্ষমতায় বসাবে— এই আশায় কী উনি সেখানে বসে আছেন? ক্ষমতার লোভে মানুষ খুন করে যাচ্ছেন? দেশবাসীকে নাশকতাকারীদের ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জানমালের ক্ষতি সাধনকারী নাশকতা কার্যক্রম প্রতিহত করা দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার। তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- এই নাশকতাকারীদের হাতে-নাতে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া তো রাজনীতি করছেন না। উনি রাজনীতির নামে দস্যুবৃত্তি করছেন। খালেদা জিয়া জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য জীবন সুরক্ষা করছেন। উনি এখন জঙ্গি নেতা। উনি মানুষের নেতা নন, জঙ্গিদের নেতা। বাংলাভাই উনার সৃষ্টি, উনি বাংলাভাই-এর মা। দেশবাসী যদি চায়, জনগণ যদি চায় উনার রাজনীতি করার অধিকার নেই। সেটা হলো বাস্তবতা। জনগণ চাইলে বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।
আবদুর রউফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবরোধ-হরতালের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এটি কোন আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী নৃশংসভাবে বাংলার মানুষকে যেভাবে খুন করেছে, এই হত্যাযজ্ঞ তাকেও হার মানায়। এছাড়া সম্প্রতি আইএসআইএস যে পদ্ধতিতে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে, বিএনপি-জামায়াত জোটও একই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ফলে এটি বুঝা যায়- এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মানুষ খুন করার বিরাট আগ্রহ আছে। মানুষ খুন করে লাশের উপর পা দিয়ে তার ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা। তিনি নির্বাচনেও বিশ্বাস করেন না, ভোটেও বিশ্বাস করেন না। না হলে গত নির্বাচনের আগে আগে আমি উপযাচক হয়ে তাকে ফোন করেছিলাম। আমাকে কিভাবে অপমান করা হয়েছে দেশের মানুষ তা দেখেছেন। তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় নির্বাচনে আসতে পারেনি বলেই বিএনপিও নির্বাচনে আসেনি। এটাই হলো বাস্তব কথা। এখন খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে মানুষ হত্যায় নেমেছেন।
বিরোধী দলের নেত্রী রওশন এরশাদ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ ও হাজী মোহাম্মদ সেলিমের পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়ে মানুষ হত্যার হুকুম দিয়েছেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
