ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেএমবির পাঁচ সদস্যের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল হালিম আসামিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করার আদেশ দেন।
ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন, ঢাকার উজানপুর গ্রামের উত্তরখান থানার আমির হোসেন ও সগির হোসেন, বরগুনার বান্দরগাছিয়া গ্রামের শাহাদাত ওরফে তানভীর, খুলনার টুটপাড়া এলাকার মুরাদ হোসেন ও বরগুনার ছোটবগী এলাকার বেল্লাল হুসাইন।
আদালত সূত্র জানায়, ঝালকাঠিতে বোমা হামলা করে বিচারক জগন্নাথ পাড়ে ও সোহেল আহমেদ হত্যা মামলায় সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছিলেন হায়দার হোসাইন। শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইসহ ৮ জঙ্গি নেতার নির্দেশে ওই দুই বিচারককে হত্যা করা হয়। বিচারকার্যের সময় জঙ্গি নেতারা আদালতে আরবি ভাষায় কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিচারককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। পিপি হায়দার আদালতে সরকারের পক্ষে শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে পাল্টা জোড়ালো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। জঙ্গিদের কাছে এটাই ছিল তার অপরাধ। আদালতে বসেই পিপিকে হত্যার হুমকি দেয় জঙ্গিরা। দুই বিচারককে হত্যার দায়ে শীর্ষ জঙ্গিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মাত্র ১২ দিন পর ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল ঝালকাঠি গোরস্থান মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় হায়দার হোসাইনকে।
এ ঘটনায় তার ছেলে তারিক ইবনে হায়দার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সা.কা.ম আনিছুর রহমান মামলাটির চার্জ গঠন করেন। দুই জন সাক্ষী না থাকায় দ্রুত বিচারের সময় পার হয়ে যাওয়ায় মামলাটি পুনরায় জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর ৫৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে গতকাল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল। তিনি বলেন, পলাতক আসামি বেল্লাল হুসাইন ঝালকাঠির বিকনা গাজীবাড়ী মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি অন্য আসামিদের আশ্রয় দেন এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। অপর পলাতক আসামি সগির হোসেন হায়দার হোসাইনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। গ্রেফতারকৃত আসামি মুরাদ জবানবন্দিতে এসব কথা স্বীকার করেছেন।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় এম আলম খান কামাল বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে মামলার বাদী তারিক ইবনে হায়দার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার বাবার হত্যা মামলার রায়ে সত্য প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য আমরা বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
হায়দার হোসাইনের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বলেন, রাষ্ট্র ও জনকল্যাণে আমার স্বামী শহীদ হয়েছেন। আমি প্রশাসনের কাছে মৃত্যুর ঘটনাস্থলে তার স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
