আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেছেন, সারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একজন দায়ী। তিনি বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তার বোতলের ভেতর থেকে জঙ্গিবাদের জিন ছেড়ে দিয়েছেন। সেই জঙ্গিবাদের খেসারত তাকেই দিতে হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমন করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখবার জন্য জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এজন্য প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, আমরা মাঠে বিএনপি-জামায়াতকে পাই না। পাই জঙ্গিবাদকে। আর এই জঙ্গিবাদের ওপর ভর করে পিছনের দরজা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসতে চান। কিন্তু সেটা কোনোদিনই হবে না।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বারবার তার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেকোনো বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত ছিলেন। সন্তানের মৃত্যুর সময় গেটের সামনে যেয়ে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু এতটুকু ভদ্রতা তিনি দেখাননি। তারা চেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ড. ইউনূসের ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসতে। এজন্য তারা পদ্মা সেতু বন্ধ করাতে পেরেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সুশীল সমাজ বলছে পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারা বন্ধের জন্য বিএনপির সাথে সংলাপ করতে। কিন্তু বিএনপি বলছে তারা নাকি পেট্রোল বোমা ছুঁড়ছে না। তবে সংলাপ করতে হলে যে ভূত পেট্রোল বোমা মারছে তাদের সাথে সংলাপ করতে হবে। আর বিএনপি যদি এর দায় স্বীকার করে তাহলে সরকার করনীয় ঠিক করবে। কিন্তু সংলাপের নাম করে বিএনপির অপকর্মকে আড়াল করা যাবে না। তিনি বলেন, টকশোতে সুশীল সমাজের বুদ্ধিজীবীরা গণতন্ত্রের কথা বলেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় সুশীল সমাজের গণতন্ত্রের দরকার হয়নি। আসলে দুই দলের সংঘাত বাঁধলে তাদের কদর বাড়ে। তাদের ডেকে উপদেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান আন্দোলন স্বাধীনতার চেতনাকে নষ্ট করার আন্দোলন। ’৭১-এর পরাজিত শক্তি মূলমন্ত্র দিয়ে এসব করাচ্ছে। আইনের আওতায় এনে এদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজুর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, হাবিবুর রহমান সিরাজ, এনামুল হক শামীম, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, মোজাম্মেল হক এমপি, নাবিল আহম্মেদ এমপি, মনিরুল ইসলাম এমপি, রনজিত রায় এমপি, কামাল হোসেন, আব্দুল মজিদ শাহীন চাকলাদার প্রমুখ।
কাউন্সিলকে ঘিরে যশোর শহর রীতিমতো উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়। বিভিন্ন নেতার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে ঢাকঢোল, ব্যান্ড বাজিয়ে কাউন্সিলে হাজির হয়। সকাল ১০টায় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
