দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই ভুয়া কর্মকর্তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। তিন দিনের রিমান্ডের প্রথম দিনে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক (সিনিয়র এএসপি) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রফিকুল ইসলাম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই দুজন হলেন—মো. মাহমুদুর রশিদ ও মো. কাউছার আহমেদ। এর আগে দুদক কর্মকর্তার পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ওই দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুদক সূত্র জানিয়েছে—বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মৌলভীবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন মন্টু কাছে অভিযুক্তরা দুদক কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদুল হক পরিচয়ে বিআরটিএর ওই কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে ০১৮১৯-২৪৭২৩৮ নম্বর থেকে ওই চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা অভিযুক্তদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হয়। বিষয়টি বিআরটিএর ওই কর্মকর্তা দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই মোবাইল নম্বর ও মোবাইল সেটের আইএমইআই নভেম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের আটক করে দুদক টিম। অভিযানকালে ওই দুজনের কাছ থেকে চারটি মোবাইল সেট, ৩২টি সিম, বিভিন্ন পদের সিল ও প্যাড উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই (৪ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
সূত্র আরো জানিয়েছে—অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দুদকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও পদবি ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এর আগেও এক প্রকৌশলীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন তারা।
