২০ দলীয় জোটের ডাকা চলমান অবরোধ ও হরতালের কারণে চামড়াশিল্পে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এম আবু তাহের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা এম এ রশীদ ভূঁইয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ মাহিন, কোষাধ্যক্ষ নুরুল আলম, কার্য নির্বাহী সদস্য এম এ মাজেদ, শহিদুল্লাহ এবং জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া খোকন।
বিএফএলএলএফইএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এম আবু তাহের বলেন, পণ্য পরিবহনে বাধা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া শিল্পনগরীতে (ট্যানারি) আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে। অন্য দিকে, ট্যানারিতে কাঁচামালের সংকটের কারণে উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার হারাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে চামড়াশিল্পে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে, উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, হরতালের কারণে হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরের কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে শিল্পোদ্যোক্তাদের নির্মাণ কাজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা এবং নতুন ড্রাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে দুই হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ সহজ শর্তে কমসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে প্রদান করা দরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অবদান রাখা প্রয়োজন। এ দিকে, হরতাল-অবরোধে উত্পাদন ব্যাহত হওয়া, উত্পাদন বন্ধ থাকাকালীন শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ, ইউরোর মূল্য হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দরপতনের প্রেক্ষিতে এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এ বছরের জানুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য ব্যাংক সুদ মওকুফ করার দাবি জানান বিএফএলএলএফইএ চেয়ারম্যান।
বিএফএলএলএফইএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু হাহের বলেন, শিল্প নগরীতে স্থানান্তরাধীন ট্যানারীগুলোকে অনিয়মিত ঋণ ব্লক একাউন্টে স্থানান্তর, মনিটরিয়াম সুবিধা প্রদান ও নমনীয় পরিশোধ সূচী নিরূপণ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারীকৃত সার্কুলার অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকই বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।
