সাতকানিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৭:৪২

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ হামলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন নিহত ও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের নতুন চর খাগরিয়া এলাকায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় মুছা গ্রুপের চান মিয়াকে বাড়ি যাওয়ার পথে বাদশা গ্রুপের শাহ্ আলম, মো. ইউনুচ ও নুরুল ইসলাম মারধর করে। এ খবর মুছা গ্রুপের লোকজনের কাছে পৌঁছলে তারা সংবদ্ধ হয়ে বাদশা গ্রুপের লোকজনের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ ঘটনার জের ধরে রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় আগের ঘটনার জের ধরে পুনরায় উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় প্রতিপক্ষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করলে দেলোয়ার হোসেন, আবদুল কাদের, আবদুল মজিদ, আবদুর রহিম ও আহমদ হোসেনের বসতঘর পুড়ে যায়। এ ছাড়া ভাংচুর করা হয় মো. আবদুল্লাহ চায়ের দোকান, মো. শাহেদের মুদির দোকান, ওসমান গনির মুদির দোকান ও আলী হোসেন, নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ হোসেন, মো. ইউনুচ, শাহ্ আলম, আলী আহমদ ও হাজী কবির আহমদের  বসতঘর।
এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাবের আহমদকে(২৭) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর ১টায় তিনি মারা যান। নিহত সাবের আহমদ এলাকার মৃত জেবর মূল্লকের ছেলে। গুলিবিদ্ধরা সকলেই মুছা গ্রুপের লোক বলে জানা গেছে।
সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক ইয়াছির আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদ হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রায় ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে মো. তারেক(১৭), কোরবান আলী(৫৫), দীল মোহাম্মদ(৪০), মো. ফোরকান(৩০), জামাল উদ্দিন(২৩) ও মামুন অর রশীদকে(২২) আটক করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।