রেলে কন্টেইনার বহন সর্বনিম্ন পর্যায়ে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৭

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে কন্টেইনার পরিবহন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রেলপথে রাজধানীর কমলাপুর আইসিডিতে কন্টেইনার পরিবহন করা হয়। বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘন্টায় ১৬টি কন্টেইনার নেয়া হয়। রেলের সাথে বন্দরের চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১২০টি কন্টেইনার পরিবহন করার কথা। রেল ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, রেলে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় এবং রেলপথে নাশকতা ও ‘দুর্ঘটনার’ কারণে রেল চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। মূলত এ কারণেই কন্টেইনার ও পণ্য পরিবহনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রেলের কন্টেইনার পরিবহন কমে যাওয়ায় বন্দরে ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেইনার রাখার ধারণক্ষমতা ইতিমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকা আইসিডিগামী কন্টেইনারের ধারণক্ষমতা ৮৭৬ হলেও গতকাল পর্যন্ত আইসিডিগামী কন্টেইনার ছিল ৯৩৩টি। তবে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বন্দরের অন্যান্য ইয়ার্ডে জায়গা থাকায় অতিরিক্ত কন্টেইনার সেখানে রাখা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরে ২০ থেকে ২২ হাজার কন্টেইনারের স্তূপ থাকে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এ সংখ্যা ২৬ থেকে ২৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কন্টেইনার সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৪০০। এর পূর্বের তিনদিন কন্টেইনার ছিল ২৭ হাজারের বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৬ হাজার। সে হিসাবে এখনও কন্টেইনার রাখার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যবাহী কন্টেইনার আসার পরিমাণ কিছুটা কম। বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণত প্রতিবছর পণ্য আমদানি কম থাকে। তাছাড়া দেশে অস্থিতিশীলতার কারণে কিছুটা প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। আবার শিল্প-কারখানার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আসা কমে যাওয়ায় কন্টেইনার আসার অবস্থা কিছুটা নেতিবাচক  লক্ষণীয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর কন্টেইনার হ্যান্ডিলং-এর ক্ষেত্রে বাইরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কোন প্রভাব নেই। এতে করে হ্যান্ডিলং কার্যক্রম যথারীতি চললেও সড়ক ও রেলপথে পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বন্দর থেকে আমদানিকারকগণ পণ্য ডেলিভারি নিতে দ্বিধায় থাকেন। সড়কপথে নাশকতাও ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে পণ্য নিতে দেরি করছেন। বন্দর সূত্রে বলা হয়, বন্দরে পণ্যজটের আপাতত শঙ্কা নেই।