জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১২:৫৩
 
পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জনতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রবিবার একটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এই রুল দেন।
একই সঙ্গে শিশু জিহাদের মৃত্যুতে বিবাদীদের অবহেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। অরক্ষিত গর্ত, পাইপ, পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ ও অন্যান্য জলাধারে শিশু বা মানুষ পড়লে তাদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধারে গত দুই বছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কী কী যন্ত্রপাতি কিনেছে, তার একটি তালিকা আগামী ১৫ মের মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে বলেছে আদালত।
সারাদেশে অরক্ষিত ও উন্মুক্ত পাইপ, কূপ, টিউবওয়েল, সুয়ারেজ পাইপ, গর্ত এবং পানির ট্যাংকের তালিকা তৈরি করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- আদালত তাও জানাতে বলেছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব, রেলওয়ে সচিব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেনটেইনেন্স), ওয়াসার চেয়ারম্যান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার ও শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল হালিম রিট আবেদন করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।
গত বছর ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েকশ ফুট গভীর একটি নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ক্যামেরা নামিয়েও ফায়ার সার্ভিস কোনো মানুষের ছবি না পাওয়ায় পাইপে জিহাদের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর উদ্ধার অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস। এর কয়েক মিনিট পর কয়েকজন তরুণের তত্পরতায় তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে উঠে আসে অচেতন জিহাদ। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।