উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত বৈদেশিক সাহায্যের পুরোটাই ব্যবহারের নির্দেশনা দিলেন পরিকল্পণামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেই সাথে যে সব প্রকল্পে এ অর্থবছরে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে না, তা আগামী মার্চের মধ্যে সমর্পণের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশনা দেন তিনি। রবিবার সকাল ও বিকালে প্রায় ৭০০ প্রকল্প পরিচালকদের সাথে দুটি আলাদা বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আমাদের প্রকল্প পরিচালকগণ সরকারি অর্থব্যয়ে যতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, ঠিক ততটাই অস্বস্তি বোধ করেন বরাদ্দকৃত বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে—এটা কথনোই কাম্য হতে পারে না। আমরা খুব শিঘ্রই এ সম্পর্কে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) সাথে নিয়ে একটি কার্যকর পন্থা হাতে নেব।’
মূলত, গুণগতমান বজায় রেখে নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্প শেষ করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করতে হয়। এ বিষয়টিকে তুলে ধরে বৈঠকের শুরুতেই পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ কমে আসলে ব্যয়ও কমে আসবে। এ জন্য যে প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিলে এ বছরই শেষ হবে সেসব প্রকলে আমরা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেব।’ তিনি বলেন, ‘অর্থবছরের শুরুতেই ক্রয়-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করলে প্রথম তিন মাসেই তা শেষ হবে। এ ছাড়া, অর্থবছরের শুরুতেই সামগ্রিক কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে সহজে বোঝা যাবে বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জটা কোথায়। এ কাজগুলো মাঝপথে শুরু করলে স্বাভাবিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়।’ পরিকল্পনা মন্ত্রী এ সময় প্রকল্প পরিচালকদের ঘন ঘন পরিবর্তন না করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওই প্রকল্পের ভূমিকা কি হবে, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তা হাতে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। অপর দিকে, এখন থেকে প্রকল্প পরিচালকদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অথবা একজনকে একাধিক প্রকল্পপরিচালক পদে নিযোগ দেয়া হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সফিকুল আজম, আইএমইডি ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শহিদ উল্লাহ খন্দকারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
