'পেট্রোলে পুড়িয়ে মারা রাজনীতি হতে পারে না'

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৭:৫৪
 
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা কোনো রাজনীতি হতে পারে না। খালেদা জিয়া সেই কাজটি করে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নষ্ট করছে। এটা বন্ধ করুন। জনগণ আপনার ওপর ক্ষুব্ধ। তারা আপনাকে ক্ষমা করবে না। এর বিচার একদিন হবেই। আপনার এ ঘৃণ্য রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চে অনুষ্ঠিত নড়াইল জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশকে জঙ্গিদের রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করেছিল। সে সময় তারা আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করে। জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে চেনে। আওয়ামী লীগ দেশকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে কৃষি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতিসহ সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে।
নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল, নড়াইল-১ আসনের এমপি কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ আসনের এমপি ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা শেখ হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
সম্মেলনের উদ্বোধক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ সংলাপের উদ্যোক্তা সুশীল নাগরিক সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কার সাথে সংলাপ করব। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারছে। বাসে আগুন দিচ্ছে। সেই খুনি জঙ্গিদের সাথে সংলাপ করব? তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। দেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জনগণ শান্তি চায়। নিরাপত্তা চায়। তাদের জিম্মি করবেন না। দেশের মানুষ এসব অশান্তি পছন্দ করে না। খালেদা জিয়া অস্থির হয়ে পড়েছেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। সেজন্য পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে। বাস, ট্রেনে আগুন দেয়া হচ্ছে। আপনার এ কাজ বাংলাদেশকে দুর্বল  এবং পাকিস্তানের হাতকে শক্তিশালী করছে।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে কমিটি গঠনের জন্য সার্কিট হাউসে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে ৮জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৭জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১২ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।