মাগুরায় পুলিশের সঙ্গে ‘সংঘর্ষে’ নিহত বিএনপি কর্মী

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৮

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার হাজামবাড়ি মোড় এলাকায় গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মশিউর রহমান (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত মশিউর ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে।

আহত হয়েছেন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথসহ চার পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারটি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে। অবরোধকারীদের কেউ আহত হয়েছেন কিনা পুলিশ তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি।
মাগুরার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, অবোরধকারীরা  মাগুরা-যশোর মহাসড়কের হাজামবাড়ি মোড় এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে  ৪/৫টি ট্রাক ভাংচুর ও  হাত বোমা নিক্ষেপ  করে। খবর পেয়ে শালিখা থানা পুলিশ সেখানে পৌঁছে সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত করার চেষ্টা করে। অবরোধকারীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িভাবে ইট-পাটকেল, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড শর্ট গানের গুলি বর্ষণ করে। 
শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে। অবরোধকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় অবরোধকারী মশিউর রহমানকে গুলিবিদ্ধ  অবস্থায় রাস্তা পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মশিউরকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মশিউর রহমান ছয়ঘড়িয়া ওয়ার্ড বিএনপি’র সম্পাদক। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চারটি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করেছে। আহত এসআই হাফিজুর রহমানকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, যেহেতু পুলিশ শর্টগানের গুলি চালিয়েছে, সেহেতু পুলিশের গুলিতে মশিউরের মৃত্যু হয়নি। সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিত্সক মজিদ মমতাজ জানান, নিহতের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। শালিখা থানা বিএনপি সহ-সভাপতি শতখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা  অভিযোগ করেছেন, মশিউর স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ তাকে বিনা কারণে গুলি করে হত্যা করেছে।