বিএনপি জোটের চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় রাজধানীসহ সারাদেশে বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তির পক্ষে ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। গতকাল রবিবার ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, কিছু লোক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু আমাদের সাফ কথা হলো, খুনি, বোমাবাজ ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোন সংলাপ কিংবা আপস না করতে ১৪ দল বদ্ধপরিকর।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের নামে সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি নেত্রীর নির্দেশে হরতাল-অবরোধের নামে তামাশা চলছে। জনগণের কাছে হরতাল এখন তামাশায় পরিণত হয়েছে। কারণ সবকিছু স্বাভাবিক, ঢাকাসহ সারাদেশে দোকান-পাট খোলা আছে, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। খালেদা জিয়ার ডাকা হরতাল-অবারোধ ঘৃণভরে প্রত্যাখ্যান করায় তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশজুড়ে গণমিছিলের অংশ হিসেবে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। মিছিলটি এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা অনিবার্ণে গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানে শপথ গ্রহণ করা হবে। গণমিছিল কর্মসূচি সফল করতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সাথে সকল শ্রেণিপেশা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই উদ্দেশ্যে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় উত্তরা আজমপুর মার্কেটের সামনে, ২৩ ফেব্রুয়ারি একই সময়ে রাজশাহীর কাটাখালী ১৪ দলের উদ্যোগে পৃথক দুটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে ১৪ দল।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জোট বর্তমানে সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি তত্পরতা চালাচ্ছে। এটা কোন আন্দোলন নয়। খালেদা জিয়ার তথাকথিত এ আন্দোলনের মধ্যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। পাকিস্তান এ আন্দোলনে পুরোপুরি সহায়তা দিচ্ছে। কারণ তারা একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নিতে চায়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কেউ আপস করেনি। আপস করলে বুশ লাদেনের সঙ্গে এবং আমেরিকা আইএসের সঙ্গে সংলাপ করতো। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। কেউ বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরণ রায় প্রমুখ।