মিসরের বিমান হামলায় লিবিয়ায় ৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৮:১১
 
লিবিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর মিসরীয় বিমান হামলায় তিন শিশুসহ সাত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। মিসরের এই হামলাকে 'আগ্রাসন' হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছে লিবীয় কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আইএসের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
রবিবার ২১ মিসরীয় খ্রীষ্টানের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করার পর মিসর ওই হামলা চালায়। লিবিয়ার উপকূলীয় দের্না শহরে চালানো ওই বিমান হামলায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়া ছাড়াও আবাসিক এলাকার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশ করা ছবিতে বাড়ি-ঘর ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। হামলার পর মিসর সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতির মাধ্যমে লিবিয়ার উপকূলে বিমান হামলার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ও বিমানগুলোর নিরাপদে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করা হয়। লিবিয়ায় হামলা চালানোর পরপরই মিসরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভবনগুলোর নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
লিবিয়ার ভেতরে মিসরের চালানো এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির স্বীকৃত সরকারের প্রধান ওমর আল-হাসি। তিনি এ হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও ‘অন্যায় আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাসি বলেন, ‘মিসরীয় সেনাবাহিনীর এ বর্বর হামলা ও সন্ত্রাসবাদ লিবিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এটা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন।’
এদিকে, আইএসের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছে মিসর। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, লিবিয়ায় যা ঘটছে তা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি। লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এবং প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সিসি। সিসির সঙ্গে আলোচনার পর রেনজির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ যে কূটনৈতিক হবে, সেই বিষয়ে দুই পক্ষই সম্মত হয়েছে। উভয় দেশই ইস্যুটি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে যাওয়ার কথা বলেছে। ওই আলোচনার পর ফ্রান্সের সঙ্গে ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তির কথা জানিয়েছে মিসর। চুক্তি অনুয়ায়ী, অন্যান্য অস্ত্রের সাথে ২৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান, একটি মাল্টি-মিশন রণতরী ও বিমানবিধ্বংসী মিসাইল কেনার কথা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি