রাজধানীর ১২ এলাকায় হবে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৮:৪১
 
 
 
রাজধানী ঢাকার ১২টি এলাকায় চালু করা হবে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার। এলাকাগুলো হলো—বাড্ডা, গুলশান, তেজগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর, কাফরুল, খিলক্ষেত, উত্তর খান, দক্ষিণ খান, উত্তরা, পূর্বাচল ও ঝিলমিল। বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিপি) অর্থায়নে মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়ায় ৪ হাজার প্রি-পেইড মিটার চালু রয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
মোট ৭১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০১৮ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২৩৭ কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ৪৫ কোটি টাকা দেবে। বাকি ২ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। 
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান—গৃহস্থালী পর্যায়ে গ্যাসের অপচয় রোধে সরকার ঢাকার ১২টি এলাকায় পর্যায়ক্রমে ২ লাখ প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘রাজধানীতে পুরোপুরিভাবে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করা হলে সাশ্রয়ী বিদ্যুত্ দিয়ে দৈনিক ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রি-পেইড মিটার যাতে এ দেশেই তৈরি করা যায় তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে সিলিন্ডার গ্যাস যাতে শহর ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সুলভে ও সস্থায় পাওয়া যায় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান—রাজধানীর পুরো ২৪ লাখ গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৫হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩টি নতুন এবং ৩টি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৪৫৩ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯ কোটি টাকা।
দেশের ৫৩ জেলার ২১৭ উপজেলায় অবস্থিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৪২ লাখ ৪৪হাজার দরিদ্র শিক্ষার্ত্রীদের উপবৃত্তির আওতায় আনতে সেকেন্ডারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট দ্বিতীয় পর্যায় (এসইএসপি) শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মেয়াদে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্ষেত্রে মাসিক উপবৃত্তি হবে ১০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ১২০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে মাসিক উপবৃত্তি ১৫০ টাকা। অপর দিকে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক ১৫ টাকা হিসেবে টিউশন ফি দেয়া হবে। নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এসএসসি পরীক্ষা ফি বাবদ বার্ষিক এককালীন ৭৫০ টাকা করে দেয়া হবে। কী অনুপাতে ছাত্র-ছাত্রীদের এ উপবৃত্তি দেয়া হবে, সে সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রতি শ্রেণিতে মোট ছাত্রীর ৩০ শতাংশ এবং মোট ছাত্রের ১০ শতাংশ এই উপবৃত্তি পাবে।
অন্য দিকে, উপবৃত্তি প্রধান প্রধান শর্তের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান—অভিভাবকের জমির পরিমাণ ৭ ডেসিমেলের নিচে এবং বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকার নিচে হতে হবে। সেই সাথে শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে বার্ষিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ। আরেকটি শর্ত হলো—এসএসসি অথবা দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে অবহিত থাকতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতিতে সরাসরি যোগ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপবৃত্তি প্রদান করা হবে।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো—৪৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ১৭১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত), ১৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় সংশোধিত), এবং ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উত্পাদন বৃদ্ধি প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায় (প্রথম সংশোধিত)।