১২ জেলায় অধিক মাত্রায় নাশকতা

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৪৫

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ ও  উপর্যুপরি হরতালে দেশের তিনটি বিভাগের ১২টি জেলায় চলেছে অধিক নাশকতা। অবরোধের সমর্থনে পেট্রোল ও ককটেল বোমার সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে ঢাকা মহানগরী এবং রাজশাহী জেলায়। অবরোধ-হরতালের নামে চলমান সহিংসতায় গত ৫ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে এক পুলিশ সদস্যসহ মারা গেছেন অন্তত ৫৬ জন। নাশকতায় হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ১৭ জন (৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও ৮ জন অন্যান্যভাবে) এবং রংপুরে ১৬ জনের (১৫ জনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে) মৃত্যু হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে মারা গেছে ১০ জন। এদের মধ্যে ৪ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও ৬ জন অন্যান্যভাবে মারা যান। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে।

সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী; রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া; রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে অধিক মাত্রায় নাশকতা হয়েছে। এই ১২ টি জেলায় জামায়াতের কর্মীরা বেশি সক্রিয়। অবরোধে নাশকতার পেছনে জামায়াত কর্মীদের বিশেষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অবরোধ ও হরতালে বিশেষ করে জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় নাশকতার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এসব এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। নাশকতার সঙ্গে জড়িত অনেককেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে অবরোধের শুরুর দিকে যে মাত্রায় নাশকতার ঘটনা ঘটেছে পরবর্তী সময়ে তার সিংহভাগই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে যানবাহনে ৬৮টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১০৬টি, ভাংচুর করা হয়েছে ৩৯টি যানবাহন। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ২৭৬টি। ককটেলে আহত হয়েছেন ৯২ জন, অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৪৩ জন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন এক পুলিশ সদস্যসহ তিন জন, পুলিশ আহত হয়েছে ৪৫ জন, সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ১৩৫ জন।
অপরদিকে রাজশাহী বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৮৪টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ৫৩টি। ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে ৫০০টি। ককটেলে আহত হয়েছেন ৩০ জন, অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ২৮ জন। নিহত হয়েছেন ১০ জন (এরমধ্যে চারজন অগ্নিদগ্ধ)। পুলিশ আহত হয়েছেন ৩৮ জন, সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন ৫৮ জন।
রংপুর বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ২১টি, ককটেল নিক্ষেপ হয়েছে ২৮টি। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৫৩ জন। মারা গেছেন ১৬ জন (এরমধ্যে ১৫ জনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন), বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন ৬৫ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৩২টি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৮টি, যানবাহন ভাংচুর  হয়েছে ১১৪টি। ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে ৩৭৪টি, ককটেলে আহত হয়েছেন ৭৫ জন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৩৪ জন। মারা গেছেন ১৭ জন (এর মধ্যে ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে), পুলিশ আহত হয়েছেন ১০৫ জন। বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন ১০৯ জন।
এর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় (সিএমপি) পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ২টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ১৭টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ১০টি। ককটেল নিক্ষেপ হয়েছে ১৬৩টি। ককটেলে আহত হয়েছে ২৬ জন, পুলিশ আহত হয়েছে ৩২ জন।
রাজশাহী মহানগর এলাকায় (আরএমপি) পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৬টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ৩টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ৮টি। ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ২৫টি। ককটেল নিক্ষেপে আহত হয়েছে ৪ জন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ৪ জন। পুলিশ আহত হয়েছে ৫ জন। বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ৯ জন।
বরিশাল মহানগর এলাকায় (বিএমপি) পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৩টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ৩টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ৬টি, ককটেল নিক্ষেপ হয়েছে ২টি, পুলিশ আহত হয়েছে ২ জন, বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ১৩ জন।
খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় (কেএমপি) কোন পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ১টি, ভাংচুর ১৯টি, ককটেল নিক্ষেপ ১০৫টি, ককটেলে আহত ১৩, পুলিশ আহত ২ জন ও বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ১৩ জন।
সিলেট মহানগর এলাকায় (এসএমপি) পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৫টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১১টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ১২টি। ককটেল নিক্ষেপ হয়েছে ৬৬টি। আহত হয়েছে ৩ জন, নিহত হয়েছে ১ জন।
এদিকে রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ৭৩টি, ভাংচুর হয়েছে ৬০টি, ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে ১০২টি। আহত হয়েছে ৪৫ জন, অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ২৫ জন, পুলিশ আহত হয়েছে ২৮ জন। বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ৭০ জন, নিহত হয়েছে ১ জন।
বরিশাল মহানগরের বাইরে বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৭টি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ১৪টি। যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ২২টি। ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে ২০টি। আহত হয়েছে ৬ জন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে ৪ জন, পুলিশ আহত হয়েছে ৩ জন, বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ৯ জন।

সিলেট মহানগরীর বাইরে বিভাগে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হয়েছে ১১টি, যানবাহন ভাংচুর হয়েছে ২২টি। ককটেল নিক্ষেপ হয়েছে ৩৫টি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে ১ জন। পুলিশ আহত হয়েছে ৪১ জন। বিভিন্ন ঘটনায় সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে ৩৮ জন।