প্রধানমন্ত্রী বর্তমান নাশকতাকে আইএস’র মতো বলে উল্লেখ করে বলেন, এই সন্ত্রাসে আইএস এর যোগসূত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) দেশের মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএস ৪৫ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'খালেদা জিয়া তার গুলশান কার্যালয়ে বসে মানুষ হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার তা নেয়া হবে। খুনের দায় তিনি এড়াতে পারবেন না।'
আইন তার আপন গতিতে চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইনের নিজস্ব গতিতে সেই মামলার বিচার হবে। বিচার না হলে দেশ ধ্বংসের পথে যাবে। প্রচলতি আইনেই বর্তমান নাশকতার বিচার সম্ভব। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেই হবে। এত মানুষের হাহাকার, বিনা বিচারে যেতে পারে না।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সরকারদলীয় সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা আরো বলেন, যারা বোমা মেড়ে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষকে পঙ্গু করে দিয়েছে, নাশকতা করছে তাদের শাস্তি অবশ্যই একদিন বাংলার মাটিতে হবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা ইতোমধ্যে জানা গেছে। নাশকতাকারী সন্দেহে যারা আটক তাদের জবানবন্দি থেকেই এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
হরতাল-অবরোধ চলাকালে সংঘঠিত নাশকতায় গ্রেফতারকারীদের বিচার দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারার মোহে এতোটাই মোহিত হয়ে আছেন যে ছেলের শোক উনার আছে কি না সন্দেহ? আজ পর্যন্ত তিনি নিজের ছেলের কবর জিয়ারত করতে যাননি।
সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলো। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায় দিয়েছে। এই রায়ের বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যাবে বিএনপি নামে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী বিএনপি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা করেছে। উনার স্ত্রী ক্ষমতায় এসে হত্যা করেছে। এবার তারা জনগণের উপর আক্রমণ শুরু করেছে। দেখে মনে হচ্ছে তার যত ক্ষোভ বাংলাদেশের মানুষের উপর।
‘কুকুরে কামড় দিলেও আমরা কুকুরকে কামড়াতে পারি না’ বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘বিএনপি নির্বাচনের আগে বাস, ট্রাক, ট্রেন আগুন দিয়েছিল। এখন এসবের পাশাপাশি মানুষ পুড়িয়ে মারছে, হরতাল দিচ্ছে। হরতাল কোথায় হচ্ছে? রাস্তায় যানজট। তবুও মানুষ আতঙ্কে। কারণ তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। তিনি এখন মানুষ মারার মোহে মোহিত, বিভোর। হুকুমের পর হুকুম দিয়ে যাচ্ছেন। একের পর এক বীভৎস ঘটনা ঘটাচ্ছেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি’র অংশ না নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ওনার (খালেদা জিয়া) ভুল সিদ্ধান্তে উনি নির্বাচনে আসেননি। জামায়াতের খাতিরে নির্বাচনে আসেননি। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। নিজে ভুল করে প্রতিশোধ নিচ্ছে জনগণের ওপর। এর ফলে যেটা দাঁড়াচ্ছে তা হলো সাধারণ মানুষ এই বিএনপির নাম মুখে নিবে না। বিএনপির নাম শুনলেই মানুষ মুখে থুতু মারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া জাতীয় পার্টির ওপর আঘাত করেছে। পার্টির প্রধানকে ডিভিশন না দিয়ে কারাগারে রেখেছে, ২০০১ সালে এসে আওয়ামী লীগের ওপর আক্রমণ করেছে। এখন জনগণের ওপর আক্রমণ করছে। নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
