বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা থেকে উত্তরণে আলোচনায় বসতে জাতিসংঘের আহ্বান নাকচ করে খুনীদের সঙ্গে সংলাপ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী ধর্মীয় সন্ত্রাসের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করে ক্ষমতাসীন এ জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট বর্তমানে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, দেশজুড়ে তারা নাশকতা চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না। সারাবিশ্বে সন্ত্রাসীদের যেভাবে দমন করা হয় সেভাবেই তাদের দমন করা হবে। গতকাল বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, সংলাপের বদলে বিএনপি জোটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে বৈঠকে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। সারাদেশে গঠিত ১৪ দলের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটিতে জনগণকে আরো সম্পৃক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা দানবের মতো মানুষের উপর হামলা করে, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। সংলাপে বসতে জাতিসংঘের দেয়া চিঠির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপের উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, অনেকে অনেকভাবে সংলাপের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করতেই পারে। তবে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল। খুনিদের সঙ্গে সংলাপের প্রশ্নই আসে না। খুনীদের সঙ্গে কিসের সংলাপ?
বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৪ দলের কর্মসূচি ঘোষণা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় একযোগে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে শান্তির পক্ষে গণমিছিল করবে ১৪ দল। ঢাকায় গণমিছিলটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে ১৪ দল শপথ গ্রহণ করবে। এছাড়া আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় রাজশাহীর কাঁটাখালিতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বংশালে ১৪ দলের শরিক গণতন্ত্রী পার্টির উদ্যোগে সন্ত্রাসবিরোধী সামাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিবেন। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার প্রথম প্রহরে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান, এজাজ আহমেদ মুক্তা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাব্লিউ, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, মহিলা সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি, ইলিয়াস মোল্লা এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, জেপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, গণতান্ত্রিক পার্টির জাকির হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, যুব সংহতির সভাপতি এমএ কাইয়ুম, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সরকার মনে করছে, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের পাঠানো চিঠি গতানুগতিক, গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই। এ চিঠির মাধ্যমে কোন চাপ অনুভব না করলেও চিঠিটির জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, জাতিসংঘ মহাসচিবের পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কবে করবেন, তাও তারা জানেন না। তবে তারা জেনেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠিতে বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনা করা এবং একই সঙ্গে সহিংসতা বন্ধের কথা বলা হয়েছে।