চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসানে উদ্যোগী হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের চিঠির জবাব দেয়া হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে মহাসচিব রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। এ চিঠির জবাব তৈরি হচ্ছে। তবে খুনীদের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না।
জাতিসংঘ মহাসচিব রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দুই সপ্তাহ আগে পৃথক চিঠি দেন। দুই দিন আগে চিঠি দুটি দুই নেত্রীর অফিসে পৌঁছে।
চিঠিতে মহাসচিব তার প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সংকট নিরসনে কাজ করছেন বলে জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের আগে যেন সহিংসতা না ঘটে সে ব্যাপারে মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে আশা প্রকাশ করেন। এ বছরই সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) মেয়াদ শেষে নতুন উন্নয়ন এজেন্ডা গ্রহণের জন্য ২০১৫ সাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন মহাসচিব।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মহাসচিব সংকট নিরসনে প্রয়োজনে সহকারী মহাসচিব তারানকোর সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন। এখন তাকে ঢাকা পাঠানোর কোন সম্ভাবনা নেই। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আসতে পারেন তিনি। বিএনপি জোটের সঙ্গে কোন সংলাপ হবে না। সংলাপের জন্য বিদেশিদের পক্ষ থেকে সরকারের উপর কোন চাপ নেই।
মানবাধিকার বিষয়ে ইইউ’র
উদ্বেগ নেই
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই। বরং বর্তমান সহিংসতা কবে শেষ হবে তারা সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে। গতকাল বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলকে পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন তৃণমূল পর্যায়ের যে নিরাপত্তা বিধান করছে, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও সজাগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতিতে মহাসড়কগুলোকে চালু করতে পেরেছি। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে পেরেছে। তারা বুঝতে পেরেছেন বাংলাদেশের জনগণ এটা প্রত্যাখান করেছে।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এবং বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার জন্য ২০১৪ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে যে দুটি প্রস্তাবনা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গ্রহণ করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানিয়েছি। তারা আমাদের বলেছে, এ ব্যাপারে তারা অব্যাহতভাবে বলে যাবে। তিনি বলেন, আমরা স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে বর্তমান বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিওচিত্র দেখিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের প্রকাশনা তাদের দিয়েছি। এটি তারা ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলটি গতকাল সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা ইউনিসেফ, ইএনএইচসিআর, আইএলও’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংসহ কয়েকজন বিশিষ্টজনের সঙ্গে কথা বলেন।