চট্টগ্রাম বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ হয়নি

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:০৯

চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত জেটি এলাকায় পণ্য চুরি বন্ধসহ বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যাল ইম্পোর্টারস এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন (বারভিডা) অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ অপর্যাপ্ত ক্যামেরা, মনিটরিংয়ে দুর্বলতা এবং চুরি রোধে আধুনিক সার্ভেইলেন্স না থাকায় বন্দরে আমদানিকৃত গাড়ি থেকে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ করা যায়নি।

বারভিডা সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন ইত্তেফাককে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ সংরক্ষিত এলাকাসহ আমদানিকৃত গাড়ি রাখার উন্মুক্ত শেডে সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেও চুরির ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, যারা রো রো জাহাজ থেকে বন্দরে গাড়ি উঠানো-নামানোর কাজ করে তারাই সংঘবদ্ধভাবে, সুকৌশলে আমদানিকৃত গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অথচ চুরির ঘটনা নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলোর। তিনি জানান, আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোতে ক্যামেরা, অডিও-ভিডিও ডিভাইস, এয়ারকন্ডিশনিং মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি সংযুক্ত থাকে। এসব চুরি হয়ে গেলে ক্রেতারা গাড়ি কিনতে চায় না। এই চুরি যাওয়া যন্ত্রাংশগুলো আবার বিক্রি হচ্ছে চোরাই মার্কেটে। আমদানিকারকদের কাছেই তা বিক্রি করা হচ্ছে। নিজের গাড়ির যন্ত্রাংশ চোরাই মার্কেট থেকে নিজেকেই কিনে আনতে হচ্ছে। বারভিডা সভাপতি বলেন, আমাদের দাবি এই চুরি বন্ধ করা হোক। উল্লেখ করা যেতে পারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অন্যান্য আমদানিকারকরাও জেটি এলাকা থেকে পণ্য চুরি ও খোয়া যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিশেষ করে বারভিডা’র অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা কমিটির অষ্টম বৈঠকেই সিসিটিভির আওতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় সিসিটিভির আওতা বাড়াতে বুয়েট সমীক্ষা দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। দরপত্র আহ্বান করা হবে শিগগিরই। সূত্র আরো জানান, বন্দরের মোট ক্যামেরার সংখ্যা ১২৮। এর মধ্যে নষ্ট ছিল ৫৬টি। এগুলোকে বদলিয়ে ও মেরামত করে ১১৪টি ক্যামেরাকে কার্যকর করা হয়েছে। বাকি ১৪টি ক্যামেরা ঠিক থাকলেও ফাইবার অপটিকস ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় চালু করা যায়নি। সেই সঙ্গে বন্দরের গাড়ির শেডে দুইটি ক্যামেরাকে সক্রিয় করে শেড থেকে গাড়ি ডেলিভারি নেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত সবার ভিডিও ফুটেজ নেয়া শুরু হয়েছে।