‘নতুন বক্তব্য’ নিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০১:০৩

‘ঝিমিয়ে পড়া’ চলমান আন্দোলনে নতুন করে গতি আনার কৌশল খুঁজছে বিএনপি। এলক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই ‘নতুন বক্তব্য’ দেবেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বক্তব্য দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। কোনো কারণে সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব না হলে ‘জরুরি বিবৃতি’ নামে তা গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হবে। খালেদা জিয়া সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন করেন গত ১৯ জানুয়ারি।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, গত দেড় মাসের টানা অবরোধ ও এরমধ্যে দেয়া হরতালে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন না থাকলেও সংলাপের জন্য সরকারের ওপর দেশি-বিদেশি ‘তাগিদ’ সৃষ্টি করা গেছে বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে, সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের চিঠি দেয়া, ইউরোপের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর ও বিদেশি কূটনীতিকদের সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং সংলাপের জন্য দেশের কিছু বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্যোগী হয়ে ওঠাকে চলমান আন্দোলনের প্রথম ধাপের ‘অর্জন’ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন এটিকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতেই নতুন বার্তা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সূত্রের দাবি, এবার অবরোধের পাশাপাশি নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন  ‘আন্দোলনের সময় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ যে অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটেছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তবে মানুষের ভোটের এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে চলমান আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে সামনে এগিয়ে নেবো আমরা। এজন্য আন্দোলন কীভাবে আরো জোরদার করা যায়, সে ব্যাপারে বেগম জিয়া শিগগিরই নিশ্চয়ই নতুন দিকনির্দেশনা দেবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বান কি মুনের চিঠির জবাব দেবেন খালেদা জিয়া। সেখানে বাংলাদেশের বিরাজমান চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ২০ দলের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরবেন তিনি। গত দেড় মাসে বিরোধী নেতা-কর্মীদের প্রতি সরকারের বিভিন্ন আচরণের তথ্যচিত্রও সংযুক্ত করা হবে। সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়া মনে করছেন তার ও সরকারের পক্ষ থেকে বান কি মুনের কাছে ফিরতি চিঠি যাওয়ার পর জাতিসংঘ পরবর্তী কোনো না কোনো পদক্ষেপ নেবে। সে বিষয়কে সামনে রেখেই এখন পরবর্তী করণীয় ও কৌশল নিয়ে ভাবছেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র যদিও বলেছেন-অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর (জাতিসংঘের সাবেক অতিরিক্ত মহাসচিব) শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসার সম্ভাবনা নেই, তবে বিভিন্ন কারণে বিএনপি মনে করছে-মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারানকোর ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়া নিজেও নিজের কার্যালয়ে অবস্থানকারী নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জাতিসংঘের সংলাপের আহ্বানকে স্বাগত
রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জাতিসংঘসহ সকল প?ক্ষের অর্থবহ সংলাপের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল দলটির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক কায়দায় প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ।
সরকারকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র মুক্তির এই আন্দোলনে ভোটের অধিকার, মৌলিক ও মানবাধিকার আদায়সহ সকল ন্যায্য দাবি আদায়ের গণজোয়ারকে স্তব্ধ করা যাবে না। গণমানুষের ন্যায্য আকাঙ্খাকে প্রতিহিংসার স্টিমরোলার দিয়ে কখনও দাবানো যায় না। চলমান ‘শান্তিপূর্ণ’ অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়ে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বিবৃতিতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলেন, সরকার ‘গণদাবি’ মেনে না নিলে আবারও হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
শহীদ মিনারে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া
ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, যেহেতু টানা অবরোধ চলছে, সে কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন শহীদ মিনারে যাচ্ছেন না। তবে দলের একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দলের পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন। ৩ জানুয়ারি থেকে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন ১৯ জানুয়ারি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতেও তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যাননি।
খাবার দিতে গিয়ে ৬ নেত্রী আটক

খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার পথে গতকাল মহিলা দলের ছয় নেত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা বেগম ও নার্গিস আলী, মহিলা দলের নেত্রী নীলুফার ইয়াসমীন নীলু, রোকেয়া সুলতানা, তামান্না ও ঝর্ণা বেগম। দুপুর ২টার কিছুসময় আগে গুলশান ২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের মোড়ে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে তাদেরকে আটকায় পুলিশ। তারা পুলিশকে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য তারা কিছু খাবার নিয়ে এসেছেন। কার্যালয়ের ফটকে খাবার পৌঁছে দিয়েই তারা চলে যাবেন। কিন্তু পুলিশ তাদের একটি গাড়িতে তুলে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গত আড়াই সাপ্তাহ ধরে এই কার্যালয়ে পুলিশ কোনো নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। কেউ খাবার নিয়ে এলেও ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।