সাধারণ মানুষকে টার্গেট করার কৌশল সমর্থন করে না যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৪:৫৩
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করার কৌশলকে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সমর্থন করে না। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মতপ্রকাশে বাধাও বরদাস্ত করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন এফ. কেরি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ মন্তব্য করেন জন কেরি। 
শান্তিপূর্ণ উপায়ে চলমান সহিংসতার অবসানে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ আশা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দেন। বৈঠকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন জন কেরি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন জন কেরি ও মাহমুদ আলী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং শ্রমিকদের পরিস্থিতির উন্নয়ন সংক্রান্ত দুই দেশের অভিন্ন প্রচেষ্টা নিয়েও কথা বলেন তারা। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশের মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর জোর দেন জন কেরি।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকে অনুরোধ জানান। এছাড়াও এ বৈঠকে জন কেরিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মাহমুদ আলী। এ ব্যাপারে জন কেরি ইতিবাচক সাড়া দেন এবং সুবিধামত সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আমেরিকা) মাহফুজুর রহমান, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিন ওয়াশিংটনে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। বৈঠক চলমান সহিংসতা থেকে জনগণকে রক্ষার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে ‘কার্যকর পথ’ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন বান কি মুন। একইসঙ্গে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে ‘দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার’ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ সম্পৃক্ততার কথা বলেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ থেকে নিরীহ জনগণের সুরক্ষা এবং মানবাধিকার রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে বান কি মুনকে অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, সহিংসতা থেকে জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব সরকারের এবং গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সব দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া জোরদারে জাতিসংঘের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন মহাসচিব। রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশেষ অবদানের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান মহাসচিব বান কি মুন।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আহ্বানে হোয়াইট হাউজের উদ্যোগে সহিংস উগ্রপন্থা নির্মূল বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।