পণ্যবাহী ট্রাকে পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ চালক জাহিদ আহমেদও (৫০) মারা গেলেন। দীর্ঘ ৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হেরে গেলেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জাহিদের স্ত্রী জাকিয়া বেগম হাসপাতালে আহাজারি করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে কেন মরতে হলো? কেন আমার পরিবারকে ধ্বংস করা হলো? আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন কেন কেড়ে নেয়া হলো? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই!’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নরসিংদীতে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন জাহিদ। ঐ দিনই তাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, জাহিদের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাই তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জাহিদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর থানার আলিমপাড়া গ্রামে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাহিদ ছোট। তার একমাত্র সন্তান জিদান (৮) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের পশ্চিম নাসিরাবাদ এলাকার বৌ-বাজারে ভাড়া থাকতেন।
জাহিদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। বড় ভাই শফি আহমেদ জানান, ঘটনার দিন সদর উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় ট্রাকটিতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে অবরোধকারীরা। এতে জাহিদসহ তিনজন দগ্ধ হন। দগ্ধ অন্যরা হলেন- ট্রাকের হেলপার চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং এলাকার সেলিম মিয়া (৪০) ও প্রাণ কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী মৌলভীবাজার এলাকার জুয়েল মিয়া (৩০)। আহত দু’জনও বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন। জুয়েল মিয়া বলেন, প্রাণ ড্রিংসের খালি ক্যান নিয়ে তারা চট্টগ্রাম থেকে নরসিংদীর পাঁচদোনায় যাচ্ছিলেন।
বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, অবরোধের আগুনে এ পর্যন্ত দগ্ধ ১৪১ জন বার্ন ইউনিট থেকে চিকিত্সা নিয়েছেন। বর্তমানে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ৫০ জন। এদের মধ্যে ৫ জন আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) এবং ৮ জন এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট-আইসিইউ’র পূর্বধাপ) ভর্তি রয়েছেন। এদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।
এর আগে বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন প্রাইভেটকার চালক আবুল কালাম, যশোরের ট্রাকের হেলপার মুরাদ মোল্লা, রংপুরের তছিরন বেগম, ঠিকানাহীন শিশু জাকির হোসেন, সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, সিলেটের ট্রাকচালক বকুল দেবনাথ, ঠিকাদার নূর আলম, লক্ষ্মীপুরের পিকআপ ভ্যান চালক কামাল হোসেন, কক্সবাজারের কৃষক যুবক রাশেদুল ইসলাম বাদশা ও লক্ষ্মীপুরের কৃষক হোসেন মিয়া।
