রাজধানীতে গাড়ি পোড়ানোর তিন ডেঞ্জার জোন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:১৯

রাজধানীর তিনটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির ৪৬ দিনে এই তিন এলাকায় ৪৫টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মূলত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা মোড় থেকে মহাখালী পর্যন্ত, শাহবাগ মোড় থেকে কাঁটাবন সড়ক ও নীলক্ষেত মোড় থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এবং মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্কর থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশন ও মিরপুর-১ নম্বর হয়ে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।  ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের হিসাব অনুযায়ী,  মহাখালী, মিরপুর ও শাহবাগ এলাকায় মোট ৪৫টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মহাখালী ওয়্যারলেস গেটের সামনে একটি প্রাইভেট কার ও একটি ট্রাকে আগুন দেয় শিবির কর্মীরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নাবিস্কো মোড়ে বলাকা পরিবহনের একটি বাস জ্বালিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই স্পটে ১৯ ফেব্রুয়ারি ও সাতরাস্তা মোড়ে ১৬ জানুয়ারি দুর্বৃত্তরা বলাকা পরিবহনের দুইটি বাস জ্বালিয়ে দেয়। ৬ জানুয়ারি শাহবাগ মোড়ে শিখর পরিবহন ও ১৭ জানুয়ারি সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে বিকল্প পরিবহনের একটি বাস জ্বালিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। ১৭ জানুয়ারি মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাওছার পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১৪ নম্বর সেকশন ও মিরপুর-১ নম্বর গোলচক্করে দুইটি বাসে আগুন দেয়া হয়।
অন্যদিকে মিরপুরের কাজীপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্কর, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন, মিরপুর-২ নম্বর সেকশন, মিরপুর-১ নম্বর গোলচক্কর, সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে ও টেকনিক্যাল মোড়ে গত ৪৬ দিনে ২৪টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে অবরোধ ও হরতাল সমর্থকরা। এসব স্থানে অন্তত তিন শতাধিক হাত বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারী ও বোমাবাজদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক অর্থ জোগানদাতা ও কারিগররা এসব বোমা তৈরি করে অন্য এলাকায় নিক্ষেপ করছে।
হাজারীবাগ থানার ওসি মাঈনুল হাসান বলেন, হাজারীবাগ এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন বোমাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে যে এই চক্রটি শাহবাগ থেকে কাঁটাবন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, নীলক্ষেত মোড়, লালবাগ, জিগাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মিরপুর এলাকায় কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শিবির, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের অন্তত ২০ জন বোমাবাজ সক্রিয় রয়েছে।
র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে.কর্নেল আবুল কালাম আজাদ স্বীকার করেন যে মিরপুর, মহাখালী ও শাহবাগ এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড অন্য এলাকার চেয়ে একটু বেশি হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, এসব এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে অর্থ জোগানদাতাদের চি?হ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে দেশে বিপুল পরিমাণ ককটেল ও বিস্ফোরক মজুদ করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরক ও বোমার সরঞ্জাম জামায়াত-শিবির, জঙ্গি ও কিছু রাজনৈতিক দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে আছে।

এদিকে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে রাজধানীতে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এলাকা ছিল যাত্রাবাড়ি। ২৫ জানুয়ারি কাঠেরপুল এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারার ঘটনায় ৭ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর যাত্রাবাড়ি এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অপারেশন শুরু হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে চোরাগোপ্তা হামলায় অর্থের মূল জোগানদাতা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ ১৮ জন গ্রেফতার হন। এর পর গত এক সপ্তাহ ধরে যাত্রাবাড়ি এলাকায় কোন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা।