নওয়াপাড়ায় কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৮:৫৫

জেলার নওয়াপাড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে ১৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনই শিশু।
শনিবার সকালে নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোড, নর্থবেঙ্গল রোড ও গুয়াখোলা গ্রামে এসব কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে গুরুতর রুবেল নামের ৭ বছরের এক শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর কুকুরের কামড়ে অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনেরা ভ্যাকসিন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোডের বাসিন্দা মিন্টু হাওলাদারের ১০ বছরের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বাড়ির পাশে খেলা করার সময় লাল রঙের একটি পাগলা কুকুর তার ডানপায়ে কামড় দিয়ে মাংশ তুলে নেয়। এ সময় প্রতিবেশিরা ওই কুকুরটিকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে কুকুরটি নওয়াপাড়া কলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ শিশু শিক্ষার্থীকে কামড়িয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। শিক্ষার্থীরা নওয়াপাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় কুকুরটি তাদের আক্রমণ করে। শিশুদের চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে আসলে কুকুরটি পালিয়ে যায়। পরে ওই কুকুরটি নওয়াপাড়া গরুহাটা এলাকায় এক যুবকসহ ৬ শিশুকে এবং গুয়াখোলা গ্রামে আরও ২ শিশুকে কামড়িয়ে জখম করে। পাগলা কুকুরের কামড়ের ঘটনা সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নওয়াপাড়া গ্রামের ইসরাইলের ছেলে সোহান (৮), শরিফুলের মেয়ে মাহিমা (১০), ফারুক হোসেনের ছেলে রমজান (৩), শহিদুলের ছেলে আলমগীর (৮), আলী আহম্মেদের ছেলে তোহা (৯), মিন্টু হাওলাদারের মেয়ে ফাতেমা (১০), আবুল হোসেনের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৭), হাবিবের ছেলে রুবেল (৭), নজরুল ইসলামের মেয়ে হালিমা (৫), সালাম হাওলাদারের মেয়ে তাবাসুম (৫), গাজী রানার ছেলে বিজন (৯), সলেমান বিশ্বাসের ছেলে ফরহাদ (১২) ও ধোপাদী সামাদ মোল্যার মেয়ে ইমা (৮)। পরে আরও ৪ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আসলেও ভ্যাকসিন না থাকায় তারা খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় হাসপাতালে স্বজনরা ভিড় করতে থাকেন এবং ভ্যাকসিন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে নওয়াপাড়া পৌর মেয়র রবিউল হোসেন ও কাউন্সিলর রবিন অধিকারী ব্যাচা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ সবধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। আহতদের অধিকাংশ নওয়াপাড়া কলাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান।