পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন কমেছে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:০১
 
 
 
 
দরসংশোধনের প্রবণতায় গত সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ কোটি টাকার। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৬০ কোটি টাকার। অর্থাত্, এ সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১৪১ কোটি টাকার বা প্রায় ১০ শতাংশ। আর ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন কমলেও আগের দুই সপ্তাহে অনেকটা একটানাই বেড়েছে সূচক। তাই মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতার কারণেই গেল সপ্তাহে সূচক কমেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া, রাজনৈতিক অস্থিরতাও বাজারে সূচক কমার একটি বড় কারণ।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন—রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য লেনদেন বাড়ছে না।
তথ্যে দেখা গেছে—গেল সপ্তাহে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫৩ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮৮ দশমিক ২৩ পয়েন্টে। নির্বাচিত শেয়ারগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।
অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে সার্বিক সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৭২ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৫ পয়েন্টে। নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৩ পয়েন্টে।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—লেনদেনে উত্পাদনমুখী শিল্পের পরিবর্তে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য ছিল। ডিসেম্বরে অধিকাংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বছর শেষ হওয়ায় লভ্যাংশের প্রত্যাশায় এ খাতের  শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ফলে এ খাতের কোম্পানিগুলোর দর ও লেনদেন বাড়ছে। গেল সপ্তাহে ব্যাংকিং খাতের বাজার মূলধন বাড়ে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বেড়েছে খাতটির লেনদেনের পরিমাণও। এ খাতের লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।
এ দিকে, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বেশি দিন দরপতন হওয়ায় বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই) রেশিও কমেছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৭ দশমিক ৩২ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ১৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। খাতভিত্তিক পিইর হিসাবে ব্যাংকিং খাতের পিই ১০ দশমিক ৪০ পয়েন্ট, আর্থিক খাতের ১১ দশমিক ১ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের ২১ দশমিক ৭৭, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের ১২ দশমিক ২৪, বস্ত্র খাতের ১২ দশমিক ৪ এবং বিমা খাতের ১৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।