আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা ও জনগণের সহায়তায় দেশে নাশকতা অনেক কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক। তিনি বলেন, টানা হরতাল-অবরোধের সময় নাশকতার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। ফলে তাদের তত্পরতা অনেক কমে এসেছে।
রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজিত ‘ট্রেনিং অন ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম সার্ক পার্সপেকটিভ’-শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ-এর রেক্টর ফাতেমা বেগম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে এম শহিদুল হক বলেন, নাশকতা সৃষ্টিকারীদের জনগণ অনুমোদন করে না। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা পেলে এ ধরনের সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর কার্যক্রম প্রসঙ্গে এ কে এম শহিদুল হক বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মানবপাচার, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে পরস্পরকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হবে বলেও জানানো হয়। আইজিপি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম দেশ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা শুধু তাদের দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ থেকেই সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে না, তাদের রয়েছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক। সার্কভুক্ত দেশগুলোর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলো ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম মোকাবিলার জন্য নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ইনফরমেশন, ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং এবং মত বিনিময় করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফাতেমা বেগম সার্কভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পেশাগত বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতার মনোভাব এবং পুলিশি সেবার সর্বোত্তম অনুশীলন ও চর্চায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সামর্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নে এ প্রশিক্ষণ কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত এটি তৃতীয় প্রশিক্ষণ কোর্স। প্রশিক্ষণ কোর্সে আফগানিস্তানের দু’জন, ভুটানের দু’জন, শ্রীলঙ্কার দু’জন, মালদ্বীপের দু’জন, ভারতের দু’জন, নেপালের একজন এবং বাংলাদেশের নয়জন পুলিশ সুপারসহ মোট ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেন।
