সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:০১
টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন রংপুরের কয়েক হাজার দুগ্ধ খামারী। রাজনৈতিক অস্থিরতায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে দুধ সরবরাহ করতে পারছেন না। সেই সঙ্গে দুধ ক্রয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা, ব্র্যাক চিলিং সেন্টারসহ অন্য স্থানীয় দুধ কেন্দ্রগুলো একযোগে হঠাত্ করেই প্রতি লিটার দুধের দাম ৪ টাকা কমিয়ে দেয়ায় আরো বিপাকে পড়েছেন তারা। এর প্রতিবাদে রংপুর জেলা দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমিতির উদ্যোগে গতকাল রবিবার দুপুরে নগরীর মাহিগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়কে কয়েকশ’ লিটার দুধ ঢেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন খামারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে তরল দুধের যে চাহিদা রয়েছে তার ২০ ভাগ দুধ রংপুর থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু টানা অবরোধ আর দফায় দফায় হরতালের ফলে তরল দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দুগ্ধজাত পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উত্পাদিত পণ্য বাজারে সরবরাহ করতে না পারায় তাদের দুধ ক্রয়ের চাহিদাও কমে গেছে। এ কারণে তারা দুধ ক্রয়ে লিটার প্রতি ৪ টাকা দাম কমিয়ে দিয়েছে।
খামারীদের দাবি, প্রতি লিটার দুধ উত্পাদনে খরচ হয় ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে দুধ বিক্রি করে খামারীরা পাচ্ছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩২ টাকা। এ অবস্থায় প্রতি লিটার দুধে তাদের লোকসান হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকা। এর ফলে অনেকে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। খামার মালিকরা গো-খাদ্য ও ওষুধের মূল্য কমানোসহ দুধের দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। সমাবেশে বক্তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে দুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক মেসের আলী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক চিলিং সেন্টারের স্থানীয় দুধ ক্রয় কেন্দ্রের এরিয়া ম্যানেজার সুভেন চন্দ্র জানান, ব্র্যাক ডেইরি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মাসে দুধের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ও চলতি মাসে ৩ টাকা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অবরোধ-হরতালের কারণে তাদের উত্পাদিত গুঁড়া দুধ ও দুধজাত পণ্য বাজারে বিক্রি করতে না পারায় সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই দুধ সংগ্রহে দাম কমিয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রংপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার দুগ্ধ খামারী রয়েছেন। দুধ বিক্রি করেই যাদের সংসার চলে।