বিএনপির বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় নিহতদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব প্রদান করবে বিএনপি- এই ধরণের বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে বিএনপি নিহতদের আত্মার এবং তাদের স্বজনদের সাথে উপহাস করছে। বিএনপি-জামায়াত এবং বেগম জিয়ার জিঘাংসার কারণে যারা মৃত্যুবরণ করছে তাদের বিএনপির ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণা করা এবং রাজাকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ খেতাব দেয়া একই ঘটনা। বিএনপি মূলত জাতির সাথে তামাশা করছে।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ একথা বলেন।
২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে বেগম জিয়ার না যাওয়া প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তার (খালেদা জিয়া) কোথাও যেতে বাধা নেই কিন্তু তিনি সেখানে যাননি জামায়াতের পরামর্শে। জামায়াত যেমন শহীদ মিনারে, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোতে বিশ্বাস করে না তেমনি বেগম জিয়াও তাদের পরামর্শে শহীদ মিনারে যান নি। আসলে বিএনপি নয় জামায়াতই এখন বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বেগম জিয়া এখন জামায়াতের মহিলা আমিরে পরিণত হয়েছেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সমগ্র দেশের মানুষ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গতকাল মিরপুরে জনগণের পিটুনিতে চারজন পেট্রোলবোমা নিক্ষেপকারীর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং সাবধান। যারা এইসব সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা ও অর্থায়ন করছে জনগণ তাদেরও চিহ্নিত করেছে। পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও সহিংসতা বন্ধ না করলে আপনাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। মহাসড়কে ৭০-৮০ ভাগ যানবাহন চলাচল করছে। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি জনগণের প্রতিরোধ আরো ব্যাপক ও অব্যাহত থাকলে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা পালানোরও পথ খুঁজে পাবে না।
হাছান মাহমুদ বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা মানুষ হত্যাকারীদের সাথে সংলাপে বসার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। আবার পেট্রোলবোমা নিক্ষেপকারীদের সাথেও গোপনে যোগাযোগ রাখছে। এরা বেগম জিয়ার সাথে দেখা করে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন অথচ একবারের জন্যও বার্ন ইউনিটে যাননি। পেট্রোলবোমায় নিহত-আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাননি। এই ধরণের ব্যক্তিবিশেষ চাইছে দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক।
