‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কে জড়াতে চাই না’

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:০৫
 
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী জাতীয় সেনাবাহিনীকে আমরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চাইনা।’ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বলতে চাই-বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী দেশের একটি নিয়মতান্ত্রিক সর্ববৃহত্ রাজনৈতিক দল। অগণতান্ত্রিক কোনো পন্থাকে বিএনপি কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। বরং আওয়ামী লীগের স্বৈরতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক ও নৈরাজ্যকর মানসিকতা ও কর্মকা্লের কারণেই অগণতান্ত্রিক শক্তির উদয় হয়েছে প্রতিবার। দেশ ও জাতির গর্ব সেনাবাহিনী তাদের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী জাতীয় সেনাবাহিনীকে আমরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চাইনা।’
এর আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কেন উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে আছেন? কোন বিদেশি প্রভু অথবা উত্তরপাড়ার কেউ খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না।’ 
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উত্তরপাড়ার ক্ষমতা দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করেছেন। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দখলকৃত অবৈধ ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা ও আসন্ন নির্মম পরিণতির ভাবনার কথাই তাতে প্রকাশিত হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে গণশক্তির ক্ষমতার ধারণা এদেশের জনগণ ১৯৬৯, ৭১ এবং ৯০’-এ প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রীয় শ্বেতসন্ত্রাস ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আজ গণশক্তির বহুমাত্রিক উত্থান হয়েছে। সেই গণশক্তির প্রচ্ল সুনামিতে আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতার মসনদ ভেসে যাবে অচিরেই।’
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল দরজা বন্ধ করে, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বাজেয়াপ্ত করে, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করে, বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণ ও কুক্ষিগত করে শুধুমাত্র বন্দুকের নল ব্যবহার করে অবৈধ সরকার প্রকারান্তরে অগণতান্ত্রিক শক্তি ও উগ্রবাদকে উত্সাহিত করছে। যার পরিণামে গণতন্ত্রের যাত্রা ব্যাহত হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজ প্রত্যেক ঘরে ঘরে গণতন্ত্রের মুক্তি আন্দোলন গড়ে উঠেছে। অবরুদ্ধ ও বিলুপ্তপ্রায় গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম ভোটাধিকার, মৌলিক মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণের ন্যায্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’