পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বন্যা, খরা, সাইক্লোন, লবণাক্ততা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত পটুয়াখালী-৩ আসনের আওয়ামী লীগের আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা, ২০০৯ প্রণয়ন করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে ৬টি অর্থবছরে (২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫) সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে সর্বমোট ২ হাজার ৯শ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
এই প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ড এ পর্যন্ত সরকারি ২৩৬টি প্রকল্পের পিপি/প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রায় ২ হাজার ৬৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং বেসরকারি ৬৩টি প্রকল্পের জন্য পিকেএসএফ-এর অনুকূলে ২৫ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারি ৬৩টি প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বরগুনা-২ আসনের শওকত হাচানুর রহমানের (রিমন) এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সংসদকে জানান, শ্যালা নদীতে তলিয়ে যাওয়া ট্যাংকার থেকে তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সে বিষয়ে পরিবেশ ও বন এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কোনো প্রকল্প নেয়নি। তবে এলক্ষ্যে মন্ত্রণালয় দুটি থেকে পৃথকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
রিমনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গতবছরের ৯ ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী শ্যালা নদীর মৃগামারী এলাকায় ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকার থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিঃসরণের ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় সার্বিক পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলার লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে একটি জরুরি সভা হয়েছে। তিনি জানান, গতবছরের ১০ ডিসেম্বর গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি ১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় কর্তৃক নিয়মিতভাবে ফার্নেস অয়েল নিঃসরিত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের পানির গুণগত পরিবীক্ষণের জন্য সদর দপ্তরের গবেষণাগার থেকে গঠিত চার সদস্যের কমিটি পশুর ও শ্যালা নদীর ১৩টি পয়েন্ট নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে। পরীবিক্ষণে দেখা গেছে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ৫.৫ থেকে ৫.৬ মিলিগ্রাম/লিটার, যা স্বাভাবিক।
খুলনা-৪ আসনের এস.এম মোস্তফা রশিদীর এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, সংশ্লিষ্ট লোকজন নিয়ে সুন্দরবন ইসিএ এলাকার সীমানা পিলার এবং বিধি-নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি পরিবেশ মন্ত্রণালয় সুন্দরবন ইসিএ’র মৌজাভিত্তিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে সরকার সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের বাইরের চারদিকে ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।
