মানবতাবিরোধী অপরাধ

জব্বারের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১২:২৮
 
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হবে। মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারে বিরুদ্ধে আনীত পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর অভিযোগের জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৪ নম্বর অভিযোগের জন্য  ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাকে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই প্রথমবারের মতো কোনো যুদ্ধাপরাধীকে অর্থদণ্ড দিল ট্রাইব্যুনাল।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। গত বছরের ১৪ আগস্ট জব্বারের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এর আগে ১ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১২ মে জব্বারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় এরপর নিয়ম অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপরও ট্রাইব্যুনালে হাজির না হওয়ায় তাকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়। পলাতক জব্বারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবুল হাসানকে নিয়োগ দেয়া হয়।
জব্বারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, তিনি ১৯৫৬ সালে প্রকৌশল বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে তার শ্বশুর ও তত্কালীন প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা আরশেদ আলীর প্রভাবে তিনি মুসলিম লীগের রাজনীতি শুরু করেন। জব্বার নিজে ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। জাতীয় পার্টির টিকিটে মঠবাড়িয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ৮০ বছর। তিনি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।