চলমান হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিকে ব্যর্থ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এ আন্দোলন মৃতপ্রায়। এগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রম, এ আন্দোলন টিকবে না। দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ঢাকার বাইরে হত্যাকাণ্ড কমে এসেছে। তবে ঢাকায় হত্যাকাণ্ড বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সফররত বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এনেট ডিক্সনের সাথে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের কোন উদ্যোগ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন আলোচনা হয়নি, এটি হলো অর্থহীন ইস্যু। বর্তমানে যা চলছে, সেখানে রাজনৈতিক কিছু নেই। সুতরাং এটা নিয়ে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।
বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার পর তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন। গত অর্থবছরের ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে, যা রেকর্ড। এ অর্থবছরেও ২ বিলিয়ন ডলারের মতো প্রতিশ্রুতি আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আরো ৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে। আমরা আশাকরছি দ্রুত বাজেট সহায়তার অর্থ পাবো। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ২০১৮ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করা। আমরা আশা করছি, ২০১৮ সালের মধ্যে দারিদ্র্য হার ১৪ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এ বছরই খানা আয়-ব্যয় জরিপ (হাউজহোল্ড সার্ভে) করা হবে, বছর শেষ হবার আগেই আমরা প্রকৃত দারিদ্রের চিত্র পাবে।
অর্থমন্ত্রী আরো জানান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সফররত ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে কথা হয়েছে। রফতানি ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বব্যাংক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তিনি আরো বলেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ সরকারের একটি বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে। আগে ২৭ বছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদের যে ব্যবহার হয়েছিলো তা বর্তমান সরকার করেছে মাত্র ৬ বছরে।
বৈঠকের বিষয়ে এনেট ডিক্সন বলেন, এ সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগীতার বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভালো অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। গড়ে ৬ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, দারিদ্র্যও কমছে। গত এক দশকে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
