টানা হরতাল অবরোধের কারণে তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে। এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় দুই লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। হরতাল-অবরোধ আরোও কিছুদিন চলতে থাকলে বাকি তাঁতগুলোও বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
অর্ধলক্ষাধিকের বেশি তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি তাঁতগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে। শেরনগর গ্রামের বিশিষ্ট তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব এমএ বাকী বলেন, আমার ফ্যাক্টরিতে ৫২টি পাওয়ারলুম ও ২০০টি হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। সবগুলো তাঁতই হরতাল-অবরোধের আগে চালু ছিল। এখন ৪০-৫০টি তাঁত চালু আছে বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের মজুরি না দিতে পারায় তারা বেকার হয়ে পড়েছে। বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার মানুষ তাঁত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। গোপালপুর গ্রামের তাঁত মালিক আব্দুস ছালাম প্রামাণিক বলেন, আমার ৩০টি তাঁত চালু ছিল। সবই এখন বন্ধ হয়েছে গেছে। আমার সংসারে ৯ জন সদস্য। এখন এমনই অবস্থা হয়েছে যে, চাল কেনার টাকা নেই। শাহপুর গ্রামের তাঁত মালিক হাজী আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ২০টি তাঁতই বন্ধ। ঘরে উত্পাদিত কাপড় আছে ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছি না। এ কারণে তাঁত শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করতে পারছি না। শ্রমিকদের ভয়ে আত্মগোপন করে আছি।
